নয়াদিল্লি: কিছুদিন আগে লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষের জেরে প্রশ্ন উঠেছিল ভারত চিন বাণিজ্য নিয়ে। সীমান্তে ভারতীয় সেনার মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশজুড়ে চিনা পণ্য বয়কটের আওয়াজ উঠেছিল। তারই প্রভাব পড়ল এদেশের রাখির বাজারে।

রীতিমতো দেশীয় রাখির দাপটে এবারের মরশুমে চিনের ক্ষতি হচ্ছে ৪০০০ কোটি টাকা। এমনটাই জানাচ্ছে দেশের অন্যতম ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি)

গত কয়েক বছর ধরেই এদেশের হোলি কিংবা দেওয়ালি যে কোনও উৎসবের সময় চিনা পণ্যে বাজারে ছেয়ে যেতে দেখা যায়। বিশেষত চিন থেকে আসা ওইসব পণ্য খুবই সস্তা হওয়ায় ক্রেতাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। ফলে ইদানিং উৎসবের মরসুমে এদেশের পণ্যকে পিছনে ঠেলে দিতে দেখা যায় চিনা পণ্যকে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিএআইটি-র দেওয়া তথ্য অনুসারে, প্রায় ৫০ কোটি রাখি বিক্রি হয়ে থাকে যার বাজার মূল্য ৬০০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে গত কয়েক বছর ধরে চিনা রাখি বিক্রি হয় ৪০০০ কোটি টাকা এবং বাজারের বাকি ২০০০ কোটি টাকা এদেশের রাখি প্রস্তুতকারীদের দখলে ছিল।

সম্প্রতি চিনের আচরনে ক্ষুব্ধ হয়ে এই ব্যবসায়ী সংগঠনটি জুন মাসে হিন্দুস্তানি রাখি পালনের ডাক দেয়। এজন্য দেশের ভিতরে রাখি তৈরির দিকে নজর দেওয়া হয়। তার জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের দিয়ে এই সংগঠনটি নিজেরাই এক কোটি রাখি তৈরি করেছে।

এছাড়া বহু মহিলা নিজেরাই ঘরে বসে রাখি তৈরি করে থাকেন। তাদের তৈরি রাখিও বিভিন্ন রং এবং ডিজাইনের তৈরি হয়েছে। এর ফলে চিন থেকে একটিও রাখি আমদানি করতে হয়নি বলে দাবি করেছে সিএআইটি।

ভারতের প্রতি চিনের বর্তমান আচরণকে ভালোভাবে নিচ্ছে না এই ব্যবসায়ী সংগঠন তারই একপ্রকার বার্তা দিতে চাওয়া হল এবারের রাখির মরশুমে। তবে এখানেই শেষ নয় আরও কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। চিনা পণ্য বয়কটের পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই সংগঠনের কর্তারা জানিয়েছেন, ৯ অগস্ট দেশজুড়ে বিক্রেতারা ‘চিন ভারত ছাড়ো’ প্রচার অভিযানে নামবে।

ওই দিনের কর্মসূচি হিসেবে দেশের ৮০০ টি স্থানে জমায়েত হয়ে ‘চিন ভারত ছাড়ো’ স্লোগান দেওয়া হবে। তাছাড়া অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পূজা উপলক্ষে ৫ অগস্ট দেশজুড়ে তাদের সদস্যদের দোকান এবং বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো হবে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা