সিউড়ি:  ভাটপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্জুন সিংয়ের শক্ত ঘাঁটিতে প্রার্থী করা হল মদন মিত্রকে। দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থেকে কামরহাটি বিধানসভাতে তৃণমূলের সংগঠনকে মজবুত করেছেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ঘনিষ্ঠমহলে। কিন্তু দল সেই সুযোগ দেয়নি। কিন্তু অবশেষে ভাটপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনে মদনেই আস্থা রাখলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত কয়েকদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ভাটপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অর্জুন সিং। ফলে ওই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই ভাটপাড়ার পুরসভার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার অর্জুন সিংয়ের ডেরায় নাম লিখিয়েছেন। তালিকায় রয়েছে পার্শ্ববর্তী বিধানসভার দাপুটে এক বিধায়ক সহ আরও বেশ কয়েকজন।

এই অবস্থায় দলের পুরানো দিনের কর্মীর প্রতি ভরসা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে জেল বন্দি অবস্থাতেই কামারহাটি কেন্দ্রে লড়েন মদন মিত্র। প্রকাশ্যে না আসতে পারায় প্রচার চালান দলীয় কর্মী এবং তাঁর পরিবারের লোকজন। কিন্তু সেবার ভোট বৈতরনি পের হতে পারেননি বহুজুদ্ধের সাথী মদন মিত্র। ওই কেন্দ্রে জয়ী হন সিপিএমের মানস মুখোপাধ্যায়। প্রকাশ্যেই পুলিশ-প্রসাসনের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ওই দাপুটে তৃণমূল নেতা।

প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় জেলবন্দি ছিলেন মদন মিত্র। জেল থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন ঘর বন্দি থাকেন তিনি। পরে ফিরে আসেন পুরানো কর্মকান্ডে। ২০১৭ সালের ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ মঞ্চের কাছে দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু তাঁর মঞ্চে জায়গা না পাওয়া নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। জল্পনা তৈরি হয় তাহলে কি তৃণমূলে মদন রাজ শেষ! এরপর তাঁর বিজেপিতে যোগদান নিয়েও কানাঘুষো শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু মদন জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর নেত্রী। এরপর ধীরে ধীরে মদনের কর্মকান্ডে ধরা পড়ে তৃণমূলের প্রতি তাঁর আস্থার বিষয়টি। শুধু তাই নয়, সক্রিয় রাজনীতিতে ফের ফিরতে আড়ালে থেকে একদিকে তৃণমূল ভবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন অন্যদিকে কামারহাটিতে নিজের হারানো মাটি শক্ত করার কাজ করছিলেন।

২০১৯-এর লড়াইকে কঠিন বলেছেন মমতা। অনেকেই ধারনা করেছিলেন প্রার্থী তালিকায় নাম থাকবে মদনের। কিন্তু প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় এই নির্বাচনে সেই অর্থে গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল। মদন মিত্র অবশ্য দলের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসাবে সৌগত রায়ের হয়ে সমর্থন চালিয়ে যাচ্ছেন কামারহাটি এলাকায়। যার নজর এড়ায়নি নেত্রীর। এরপরেই সিউড়ির জনসভা থেকে ভাটপাড়া উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে মদন মিত্রের নাম ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী।

দলীয় সূত্রে খবর, বরাবরই ফাইটার হিসাবে পরিচিত মদন মিত্র। তাই প্রভাবশালী অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধেই প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু দলেরই একাংশের ব্যাখ্যা মদনকে বাঘের ডেরায় লড়তে পাঠালেন নেত্রী। লড়াইটা খুব একটা সহজ হবে না বলেই মত তাঁদের। পরাজয় মানেই প্রশ্ন উঠবে মদন মিত্রের রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যত নিয়ে।