নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রিয় নেত্রী৷ তাঁর অনুপ্রেরণাতেই মন্ত্রী থেকে সদ্য উপনির্বচনে লড়াই৷ বারে বারেই নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মদন মিত্র৷ এহেন ডাকাবুকো নেতা শেষ পর্যন্ত মুখ খুললেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ করলেন বিস্ফোরক সব অভিযোগ৷

সারদা-কাণ্ডে সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীন প্যারোল না মেলে থেকে কামারহাটিতে হার, দলে ঠিক মত সম্মান না পাওয়া, লড়াইয়ের নির্দিষ্ট কোনও কেন্দ্র না থাকা নিয়ে নিজের ফেসবুক লাইভে সোচ্চার হন রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী৷ জানিয়ে দেন, ‘আমাকে দলের মধ্যেই অনেকে আন্ডার এস্টিমেট করছেন৷’

দলে দর পাচ্ছেন না, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মদন মিত্র

দলে দর পাচ্ছেন না, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মদন মিত্র

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले रविवार, २३ जून, २०१९

ফেসবুক লাইভে মদন মিত্র বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ মেলেনি৷ প্রভাবশালী তত্ত্বে আমাকে জেলে রাখা হয়েছিল৷ সেই সময় বিধানসভা ভোটে আমাকে দল প্রার্থী করে কামারহাটি থেকে৷ আমি প্যারোলের আবেদন করেছিলাম৷ ৪৩বার করা হয়েছিল আবেদন৷ কিন্তু আবেদন গ্রাহ্য হয়নি৷’’ তাঁর দাবি, ‘‘পরে জানতে পারি রাজ্য প্রশাসনই সেই আবেদন নাকচ করেছে৷ কারামন্ত্রী ছিলেন স্বর্গীয় হায়দার আাজিজ সফি৷ বেঁচে থাকলে তিনিই বলতে পারতেন কার নির্দেশে এই কাজ হয়েছিল৷’’

আরও পড়ুন: সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয়, পলাতক তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর

মদনবাবুর প্রশ্ন, ‘ছত্তরধর দেশদ্রোহিতার অভিযোগে জেলে খেটে প্যারোল পেলে আমনাকে কেন দেওয়া হল না? আমার জনপ্রিয়তাই কী বাধা হল এক্ষেত্রে৷’ তাঁর অনুযোগ, ‘ছাড়া পেলে প্রচার করতে পারতাম কামারহাটিতে৷ যে ব্যবধানে হেরেছি তা নগন্য৷ প্রচার করতে পারলে নির্বাচনের ফল অন্যরকম হত৷’

প্রাক্তনমন্ত্রীর দাবি, ‘‘অনেকেই মনে করেন মদন মিত্র কামারহাটিতে অবাঞ্ছিত৷ আমি চাই এটা নির্ধারণ হোক৷’’ কখনও কামারহাটি, কখনও বিষ্ণুপুর পশ্চিম আবার কখনও ভাটপাড়ায় দলের নির্দেশে ভোটে লড়াতে হয়েছে মদনবাবুকে৷ যা নিয়েও চাপা ক্ষোভ উগরে দেন ফেসবুক লাইভে৷ নাম না করেই দলীয় নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি নির্দিষ্ট কোনও কেন্দ্রে প্রার্থী হইনি৷ তবু জিতেছি৷ অনেকেরই সেই দম নেই৷’’

প্রায় ১৯ মাস কারারুদ্ধ ছিলেন তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী মদন মিত্র৷ তারপর ভাটপাড়া উপনির্বাচনে লড়াই তাঁর কাছে ছিল অ্যাসিড টেস্ট৷ কিন্তু ‘পবণ বাণে’ বিদ্ধ তিনি৷ পরাজয়ের জন্য দলের অন্দরে তাঁকে যে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে মদনবাবুর কথাতেই তা স্পষ্ট৷

আরও পড়ুন: ‘আবার পালটি খাচ্ছে’, চোখ-কান খোলা রাখতে বললেন শিলাজিৎ

তাঁর কথায়, ‘‘দলের বহু নেতার বিরুদ্ধে সিবিআই রয়েছে৷ কিন্তু ভোটে তাঁরা জিতেছেন৷ বলেন, সিবিআই থাকলেও তারা হারেননি৷’’ কিন্তু হেরেছেন শাসক দলের জনপ্রিয় নেতা মদন মিত্র৷ কারণ হিসাবে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সৌগত রায়, ফিরহাদ হাকিম, অপরূপা পোদ্দার, কাকলী ঘোষদস্তিদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও সিবিআই এদের বলির বখরা করেনি৷ আমাকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে তা করা হয়েছে৷’’

দলের বিরুদ্ধেই বিষোদগার মদন মিত্রের৷ জল্পনা, তা হলে কী তৃণমূল ছাড়ার পথে প্রাক্তন মন্ত্রী৷ নিজেই জল্পনা নিরসন করেছেন তিনি৷ ফেসবুক লাইভেই জানিয়েছেন, ‘‘চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি৷ সব রাস্তা খোল রয়েছে৷’’ পরে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘‘দল ছাড়বো না৷’’

গেরুয়া শিবিরের উত্থানে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক৷ দলের পুরনোদের সংগঠনে সম্মান দেওয়ার কথা বলেছেন তৃণমূল নেত্রী৷ সেই সুযোগেই কী দলের প্রতি অসন্তোষ তুলে ধরলেন মদন মিত্র? কৌশলে বার্তা দিলেন, দলের পুরনোদের প্রতি অসম্মান করলে বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প