সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : রাজনীতির ময়দানে তিনি যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতেও একইভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি মদন মিত্র। অরাজনৈতিক জনপ্রিয় সোশ্যাল প্লাটফর্মে নাম না করে তিনি বিজেপিকে ‘রাম ভক্ত হনুমান’ বললেন। তিনি বলছেন, ‘ভারতে এক দল হনুমান আছে যারা দিনে রাতে যখন যেভাবে পারছে রামকে বিক্রি করে খাচ্ছে। এদের বুকে নেই রাম-সীতা, আছে মুখে’।

‘রাম কা নাম বদনাম না করো’, গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার ব্রিগেড সভায়। অনেকটা সেই ধাঁচেই যেন বিজেপিকে এক হাত নিলেন মদন মিত্র। রাজনীতির ময়দানে এখন কম সক্রিয় হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্বমহিমাতেই রয়েছেন। তার প্রত্যেকটি ভিডিওতে লাইক, কমেন্টের ঝড়। তেমনই একটি সোশ্যাল চ্যানেল ‘বাঁকুড়া মিম’। সম্প্রতি বেশ কিছু অশ্লীল মিম বানিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিল এই ফেসবুক পেজ।

সম্প্রতি তারা একটি ‘মিম শো’ শুরু করেছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সেই শো’তে হাজির করে। এই ‘টক শো’এর প্রথম অতিথি ছিলেন মদন মিত্র, রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী। সেখানেই মদন মিত্র এমন মন্তব্য করেন।

বাঁকুড়া মিমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মদন মিত্রকে নিয়ে বানানো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাঙ্গাত্মক ফেসবুক পেজের পোস্ট প্রসঙ্গে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি ঘুরিয়ে উত্তর দেন। তিনি বলেন, “ভারতবর্ষ ১৩০ কোটির দেশে এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি বিক্রি হচ্ছে হনুমান আর রাম সীতা। কতগুলো হনুমান জড়ো হয়েছে, তাদের বুকে রাম সীতা নেই, মুখে রাম সীতা রয়েছে।”

এরপরেই তাঁর বক্তব্য, “সকালে রামকে বেচছে, রাতে বেচছে। আবার একটা জায়গায় দেখাচ্ছে রাম রাইফেল চালানো প্র্যাকটিস করছে।” ভগবান রামের প্রতি সহানুভূতির সুরে তিনি বলেছেন , “বেচারি রাম! বৌটাকে নিয়ে পালিয়ে গেল রাবণ। তাকে খালি পায়ে, খালি গায়ে ধরতে গেল। হয়ে গেল কি না রামকে নিয়ে বিজনেস!”

একইসঙ্গে তিনি বলেন , “তালব্য শ’-এ শালাও হয় আবার শতদলও হয়”, অর্থাৎ পদ্ম। এরপরে তিনি আসল প্রসঙ্গে ফেরেন। বলেন, “ভগবান বেচে এতো লোকে খায়।” তাঁকে নিয়ে মিম বানিয়ে যদি কারও খাওয়া পড়া জোটে তাহলে তাতে তাঁর কোনও সমস্যা নিয়ে, কিন্তু তাঁর একটাই আর্জি মিম যেন শ্লীলতার মাত্রা না ছাড়ায়। তেমন কিছু হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

শেষে আবার ছোট্ট করে চৌকিদার প্রসঙ্গও যেন উস্কে দিয়ে মদন মিত্র বলেছেন, “আমি ঘুমোব আর কিছু লোক জাগবে না, আমার না এটা ঠিক ভালো লাগে না।”

বাঁকুড়া মিমের পক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোডাকশন ম্যানেজার নিশান্ত বারুই বলেন , “আমরা পুরো বিষয়টাই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কিন্তু সেখানে প্রশ্ন থাকবে অরাজনৈতিক। মদন মিত্রকে আমরা প্রথম ইন্টারভিউ করব বলে জানিয়েছিলাম। উনি রাজি হয়েছিলেন। তারপর আমাদের ডেকে নেন। আগে প্রশ্ন দেখে নেন। সেই অনুযায়ী সপ্তাহখানেক আগে মদন মিত্রের এই পর্বের শ্যুটিং হয়।” তালিকায় আরও অনেক বড় নেতা নেত্রীও আছেন বলে জানানো হয়েছে ওই সোশ্যাল মিডিয়া পেজের পক্ষে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও