নিউজ ডেস্ক: মানুষের জন্য কাজ করতে তিনি ভালোবাসেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুনাম রয়েছে তাঁর। রাজনীতির রাজ্যপাট খুইয়ে এখন তাঁর জনপ্রিয়তা ফেসবুক লাইভে। তবে শেষ সুযোগ পেয়েও তা হারিয়ে ফেললেন তিনি।

আলোচিত ব্যক্তির নাম মদন মিত্র। রাজ্যের পরিবর্তিত সরকারের অন্যতম প্রধান ক্যবিনেট মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০০১ সাল থেকে দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ক্রিড়া এবং পরিবহন দফতরের কাজ।

তবে সেই সুখ তাঁর খুব বেশি দিন সহ্য হয়নি। ২০০৪ সালে সারদা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত করা হয় মদন মিত্রকে। রাজ্যের মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। প্রথমেই মন্ত্রিত্ব থেকে মদনকে সরাননি মমতা। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের কামারহাটি কেন্দ্র থেকেই তাঁকে প্রার্থী করে তৃণমূল। জেলে থেকেই নির্বাচনে লড়াই করেছিলেন মদন।

কিন্তু সময়টা খারাপ যাচ্ছিল। রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের ভরা বাজারেও জিততে পারেননি মদন মিত্র। সিপিএম প্রার্থী মানস মুখোপাধ্যায়ের কাছে তাঁকে পরাস্ত হয়। দলীয় কোন্দলের কারণেই মদনকে হারতে হয়েছিল বলে দাবি করেন অনেকে। হেরে গেলেও রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি তিনি। জেলে থেকে ফিরে কামারহাটির মাটি কামড়ে পরেছিলেন।

২০১৯ সালে ভাটপাড়া বিধানসভার আসন খালি হলে ওই কেন্দ্র থেকে মদন মিত্রকে প্রার্থী ঘোষণা করেন নেত্রী মমতা। ভাটপাড়ায় জয়ের বিষয়ে বিশেষ আশাবাদী ছিলেন মদন। জোর লড়াই করেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি। অর্জুনপুত্র পবন সিং-এর কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে তাঁকে। পরাজয়ের পরে পুত্রসম পবনকে ভালো থাকার বার্তা দিয়ে অর্জুন সং-এর সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই জারি রাখার কথা বলেছেন তিনি।

কিন্তু এবার কী করবেন মদন মিত্র? তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। বাম জমানায় দলের অনেক দুর্দিনের সঙ্গী ছিলেন। পরে দলের সুদিন ফিরলেও তা বেশিদিন মদনের সঙ্গ দেয়নি। দল তাঁকে সুযোগ দিলেও তাও ধরে রাখতে পারলেন না মদন। আপাতত ফেসবুক লাইভেই ভরসা রাখতে হবে দিদির প্রিয় ভাই মদন মিত্রকে।