স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের কটাক্ষ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷ বললেন, পশ্চিমবঙ্গে ম্যাডামের নির্দেশ শুনতে হবে৷

মঙ্গলবার সকাল ৬.৫৮। হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনে যান সস্ত্রীক রাজ্যপাল৷ পরনে জগিংয়ের পোশাক। সেখানে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান জানান, বোটানিক্যাল গার্ডেনে কল্পতরু ভেবে একটি গাছকে জড়িয়ে তিনি শান্তিকামনা করেছেন৷ চেয়েছেন রাজনৈতিক হিংসার অবসান৷ পরে জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল যে গাছটিকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, সেটি আসলে আফ্রিকার বাওবাব গাছ৷

এদিন বোটানিক্যাল গার্ডেনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল শান্তির বার্তা দিয়েছেন। বলেন, “হিংসা, উগ্রতা দূর করে পশ্চিমবঙ্গ যেন একটা শান্তির স্থান হতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। আপনারাও এগিয়ে আসুন।” সপ্তাহখানেক আগে রবীন্দ্র সরোবর লেকে মর্নিং ওয়াকে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেখান থেকে মমতা সরকারের উদ্দেশে বেশ নরমেগরমে কথা বলেন তিনি।

রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষে ব্যথিত অনুভব করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কারও সঙ্গে কারও মতের অমিল হতেই পারে। কিন্তু তার জন্য হিংসা, সংঘর্ষ এসবের মধ্যে দিয়ে যাওয়া উচিত নয়। আমি যখন এসব শুনতে পাই, রাজ্যপাল হিসেবে খুব খারাপ লাগে। আমি সকলের কাছে আবেদন করতে চাই, শান্তির লক্ষ্যে কাজ করি। ধারাবাহিক হিংসার ঘটনা কোনও রাজ্যের নামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সুন্দর একটি রাজ্য, সেখানে এমনটা কাম্য নয়।”

তবে মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর এই কটাক্ষ নতুন নয়৷ এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাব এড়িয়ে বলেছিলেন, ক্রিকেটের সব বল খেলতে নেই৷ তবে রাজ্যপাল আক্রমণ করলে মুখ্যমন্ত্রীও তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন৷ সম্প্রতি সংবিধান দিবসে বিধানসভায় নাম না করে রাজ্যপালকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ চটুল হিন্দি গানের লাইন ব্যবহার করে বলেছিলেন, ‘তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত৷’

ধনকড়ের ভূমিকায় অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে মমতা বলেছিলেন, ‘শেষ যিনি রাজ্যপাল ছিলেন তাঁর সঙ্গেও এরকম সম্পর্ক ছিল না। প্রধানমন্ত্রীও দেখা হলে আমার সঙ্গে কথা বলেন।’

তবে এদিন রাজ্যপালের কটাক্ষের জবাব এখনও তৃণমূলের তরফ থেকে দেওয়া হয়নি৷