স্টাফ রিপোর্টার, বারুইপুর: শতাধিক বছর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগণার মন্দির বাজার থানার দক্ষিণ বিষ্ণুপুরে শ্মশান লাগোয়া জঙ্গলের মধ্যে মা কালীর মন্দির স্থাপন করা হয়েছিল৷ সেই মন্দিরে করুণাময়ী মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন এলাকার প্রখ্যাত তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তী। মায়ের সাধক মণিলাল স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন। মা কালীর স্বপ্নাদেশেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ১০৮টি নরমুণ্ড জোগাড় করেন তিনি। যা মায়ের মূর্তির চারিদিকে সাজিয়ে রেখেই আরাধনা শুরু করেছিলেন মণিলাল বাবু। পাশাপাশি পঞ্চমুণ্ড দিয়ে তৈরি আসনে বসেই মায়ের পূজা অর্চনা করতেন তিনি।

মায়ের সেবার কাজে তাঁকে সাহায্য করতেন ভাই ফণীভূষণ চক্রবর্তী। তিনিও ছিলেন মায়ের সাধক৷ কয়েক বছর পর জটিল রোগের কারণে মৃত্যু হয় মণিলাল বাবুর। এরপর তার ভাই মায়ের সেবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কথিত আছে মণিলাল বাবুর তুলনায় ফণীভূষণ বাবু আরও অনেক বড় তান্ত্রিক ছিলেন। সরাসরি মা করুণাময়ীর কথা শুনতে পেতেন তিনি।

মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতি অমাবস্যায় মায়ের পুজো হত জাঁকজমক পূর্ণভাবে। সেই পুজোতে পাঁঠা বলিও দেওয়া হত। কিন্তু একদিন মায়ের সাধক তান্ত্রিক ফণীভূষণ চক্রবর্তী স্বপ্নাদেশ পান মা করুণাময়ী আর বলি চাইছেন না। সেই কারণে বন্ধ হয় এই মন্দিরে বলি প্রথা। তবে পুজোতে প্রয়োজন রক্তের৷ তাই বলির জন্য আনা পশুর কানের পাশ থেকে একটু রক্ত নেওয়া হত।

এই ভাবেই বছরের পর বছর ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগণার মন্দির বাজার থানার দক্ষিণ বিষ্ণুপুর এলাকায় এই মা করুণাময়ীর পুজো হয়ে আসছে। বর্তমানে মতিলাল বাবুর ছেলে শ্যামল চক্রবর্তী নিজেই দায়িত্ব নিয়ে মায়ের পুজা অর্চনা করেন। তবে এখন আর প্রতি অমাবস্যায় বড় করে মায়ের পুজো না হলেও বিশেষ বিশেষ তিথিতে মায়ের পুজো হয় ধুমধাম করে।

প্রতি অমাবস্যা তিথিতে এই মন্দিরে এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তান্ত্রিকরা আসেন তন্ত্র সাধনা করতে। অমাবস্যার রাতটা কাটিয়ে পরদিন ভোরেই চলে যান তাঁরা। শ্মশান ও মন্দির লাগোয়া বটগাছের তলায় বসে চলে তন্ত্র সাধনা। শ্মশান পেরিয়ে মন্দিরে যেতে হয় বেশ কিছুটা জঙ্গল পথ পেরিয়ে, যেখানে এখনও গা ছমছমে পরিবেশ রয়েছে।

এলাকার মানুষের মতে দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের এই কালী মন্দিরের মা করুণাময়ী অত্যন্ত জাগ্রত। ভক্তিভরে মাকে ডাকলে মা সারা দেন। মায়ের কাছে ভক্তিভরে যাই চাওয়া যায় তাই পাওয়া যায় বলে দাবি সাধারণ মানুষের। মা করুণাময়ী সকলের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন। তাই প্রতিদিন এই মায়ের মন্দিরে নামে ভক্তদের ঢল। মায়ের কাছে মানত করে ঢিল বাঁধলে ও ভক্তি ভরে মাকে ডাকলে কেউ খালি হাতে ফেরে না বলে জানান এলাকাবাসী৷

এই মন্দির লাগোয়া রয়েছে দক্ষিণ বিষ্ণুপুর শ্মশান। সেই শ্মশান ও খুবই জাগ্রত বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি প্রতিদিন এই শ্মশানে শব আসা চাই৷ নাহলে শ্মশানের কয়লা আপনি আপনিই জ্বলে ওঠে। একাধিকবার এই ঘটনা ঘটেছে। আদি গঙ্গার তীরে এই শ্মশান ও মা করুণাময়ীর মন্দির ভক্তবৃন্দের কাছে অত্যন্ত পুণ্যস্থান বলেই বিদিত হয়ে রয়েছে।