স্টাফ রিপোর্টার, মহিষাদল: শহর থেকে গ্রামের গঞ্জ সবাই আজ মেতেছে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর আয়োজনে। লক্ষ্মী পুজোর আয়োজনে পিছিয়ে নেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলও । জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিগ বাজেটের লক্ষ্মীপুজো গুলির মধ্যে অন্যতম মহিষাদলের ঝাউপথরা এলাকার লক্ষ্মীপুজা। আর সেখানেই মহিষাদলের ঐতিহ্যবাহী রথে চড়ে বসেরয়েছেন মা লক্ষ্মী।

জানা গিয়েছে, মহিষাদলের ঝাউপথরা এলাকার লক্ষ্মীপুজা সংস্থার এবারের থিম মহিষাদলের ঐতিহাসিক রথ।আর এই রথের আদলে তৈরি মন্ডপের মধ্যেই প্রতিমার আসনে বসে রয়েছেন মা লক্ষ্মী।

সূত্রের খবর, পুজো সংস্থার এইরূপ ভাবনায় দেখে কার্যত চোখ কপালে করে হাঁসিতে লুটোপুটি খাচ্ছেন মহিষাদলের ঝাউপথরা গ্রামের বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, কোনোরূপ মন্ডপশিল্পী দিয়ে নয়। এলাকার ছাত্রদের দ্বারা গড়ে ওঠা এই পুজো সংস্থার সদস্যদের নৃপুন হাতের কারুকার্যে তৈরি হয়েছে এই মন্ডপ। প্রায় দুই মাসের প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে এই লক্ষ্মী পুজোর মণ্ডপ।

শুধু তাই নয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শহর মহিষাদলের প্রাচীন ঐতিহ্যগুলির মধ্যে অন্যতম এখানকার রাজবংশের শতাব্দীপ্রাচীন রথ।আর এই ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২৫তম বর্ষে ঝাউপথরা সার্বজনীন লক্ষ্মীপুজো কমিটির এবারের থিম মহিষাদলের রথ। আর এই মণ্ডপ দেখার টানে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। জানা গিয়েছে, রথকে কেন্দ্র করে এখানে বসে এক বড় মাপের মেলাও। রবিবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসীদের কানে কানে চাউর হয়ে যায় নাকি রথে বসে আছেন মা লক্ষ্মী। আর এই খবর শুনে স্বয়ং মা লক্ষ্মীকে দেখতে ছুটে যান সকলে। কিন্তু সকলে গিয়ে দেখেন লক্ষ্মী পুজোর রথরূপী মণ্ডপে বসে আছেন মা লক্ষ্মী। আর পুজো সংস্থার এইরূপ চমকপ্রদ মণ্ডপে বাহবা দিয়েছেন সকলেই।

সূত্রের খবর, লক্ষ্মী পুজোর দিন মহিষাদলের এই পুজা মন্ডপ দেখতে সারাদিন বিশেষ দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীরা জানান, “প্রতিবছরই এখানকার পুজোমণ্ডপে এক বিশেষ আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায় এবছরও যার ব্যতিক্রম হয়নি। আমরা সকলের মুখে শুনেই এই মন্ডপ দেখতে এসেছি।” অপরদিকে পুজো সংস্থার সদস্য অমলেশ ভৌমিক জানান,”আমরা কোনোবছর মন্ডপের জন্য কোনো শিল্পীর সাহায্য না নিয়েই নিজেরা মন্ডপ তৈরি করি’। ‘এই বছরও আমরা সকলে মিলে প্রায় দুইমাসের প্রচেষ্টায় এই মন্ডপ তৈরি করেছি’। ” ঘরে ঘরে লক্ষ্মীদেবি আরাধনা হলেও মহিষাদলে ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত লক্ষ্মী পুজোয় আলাদা রুপ পেয়েছে তাঁদের হাত ধরে’। তাইতো সন্ধ্যা নামতেই প্রতিমা ও মন্ডপ দেখতে ভীড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা।