দেবময় ঘোষ: মা দূর্গা কেন সপরিবারে আসেন এ প্রশ্ন হয়তো আমাদের অনেকের মনেই ঘোরাফেরা করে। এই বাংলায় মা দূর্গার যে কাঠামো আমরা দেখতে পাই তাতে থাকে সাতটি মূর্তি। মাঝে মা দূর্গা স্বয়ং। ডানদিকে একটু উপরে লক্ষ্মী, একটু নীচে গণেশ। বাম দিকে ঠিক একই রকম ভাবে একটু উপরে সরস্বতী এবং নিচে কার্তিককে আমরা দেখতে পাই। মায়ের পায়ের নিচে একদিকে সিংহ, অন্যদিকে মহিষাসুর। মা দূর্গার এই রূপেই আমরা বেশি পরিচিত।

এখানে অবশ্যই বলে রাখতে হবে, সাবেকি একচালার দূর্গা প্রতিমায় এই রূপ দেখা যায়। দূর্গার এই রূপ কালে কালে পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বজনীন দুর্গোৎসবগুলিতে মা বিভিন্ন রূপেই মণ্ডপে-মণ্ডপে আমাদের দেখা দিয়েছেন। যা যৌথ বাঙালি পরিবারের এক উজ্জ্বল প্রতীক। সাবেকি বা আধুনিক – যেমন মূর্তিই হোক না কেন, পুজো মণ্ডপের দর্শনার্থীরা একটি বিষয় ভালো করার খেয়াল করে দেখবেন, দেবীর ডান পা সিংহ পৃষ্ঠে এবং বাঁ-পায়ের শ্রী অঙ্গুলী মহিষাসুরের কাঁধে রয়েছে। এবারে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বিষয়টা ভালো করে খেয়াল করবেন।

দেবীর আবাহনমন্ত্রে আছে – “হে পরিবার সমন্বিতা ভক্তিসুলভা সুরশ্রেষ্ঠা দূর্গা, যতক্ষন আমি তোমার পূজা করব ততক্ষন কৃপা করে স্থিরভাবে অবস্থান কর, অচঞ্চল থাক।” বাঙালির হৃদয়ে মা দূর্গার অবস্থান মূলত কন্যারূপে। কার্তিক, গণেশ তাঁর দুই ছেলে। লক্ষ্মী, সরস্বতী দুই মেয়ে। কন্যা শরৎকালে বাপের বাড়িতে এসেছে। মা দূর্গার আগমনী সংগীতও সেই বার্তাই দেয়। ধন, ঐশ্বর্যের দেবী মা লক্ষ্মী, বিদ্যাদায়িনী মা সরস্বতী, শৌর্যের দেবতা কার্তিক, সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং তাঁদের বাহন যথাক্রমে, পেঁচা, রাজহাঁস, ময়ূর এবং ইঁদুর সহ মা দূর্গার একচালার প্রতিমা , পুজো এবং পরিকল্পনা বাংলার একান্তই নিজস্ব।

দূর্গা শব্দটির দুধরনের অর্থ রয়েছে। যাঁর তত্ত্ব অতি কঠিন। মা যদি কৃপা করে জানান তবেই জানা সম্ভব। “তুমি কৃপাকর যারে সে তোমারে জানতে পারে।” ‘দ’ – অক্ষরটি দৈত্য নাশক। উ’কার বিঘ্ন নাশক, ‘গ’- পাপ নাশক এবং অ-কার ভয়-শত্রু নাশক। যার অর্থ, দৈত্য, বিঘ্ন, ভয়, রোগ , শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন তিনি দূর্গা। আবার যিনি ‘দূর্গ’ নামে অসুরকে নাশ করেন – তিনিই দূর্গা। দূর্গা শব্দটির দুধরনের অর্থ রয়েছে। যাঁর তত্ত্ব অতি কঠিন।

মা যদি কৃপা করে জানান তবেই জানা সম্ভব। “তুমি কৃপাকর যারে সে তোমারে জানতে পারে।” ‘দ’ – অক্ষরটি দৈত্য নাশক। উ’কার বিঘ্ন নাশক, ‘গ’- পাপ নাশক এবং অ-কার ভয়-শত্রু নাশক। যার অর্থ, দৈত্য, বিঘ্ন, ভয়, রোগ , শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন তিনি দূর্গা। আবার যিনি ‘দূর্গ’ নামে অসুরকে নাশ করেন – তিনিই দূর্গা। মা দূর্গা সপরিবারে আসেন। তবে মাতৃপ্রতিমার উপরে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবকে দেখতে অবশ্যই ভুল করবেন না। পরিবারের প্রধান না হলে পরিবার কীভাবে সম্পুর্ন হবে …।