অভিষেক কোলে: ইডেনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের কাছে হারের পর আন্দ্রে রাসেল সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে প্রকারান্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পর পর বড় রানের ইনিংস খেলা সত্ত্বেও তাঁকে লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে পাঠানো নিয়ে অখুশি ছিলেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামার প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রাসেল।

মুম্বই ম্যাচের আগে যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে কলকাতার, তখনও রাসেলের কথায় স্পষ্ট ধরা পড়ে নাইটদের পরিকল্পনার অভাবের বিষয়টা। দীনেশ কার্তিকের নেতৃত্ব নিয়ে কোনও অভিযোগ না করলেও রাসেল বুঝিয়ে দেন, টিম ম্যানেজমেন্টের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হচ্ছে কেকেআরকে।

আরও পড়ুন: ‘স্বার্থ সংঘাত’ প্রশ্নে বোর্ডের নোটিশের জবাব দিলেন সচিন

বাস্তবিকই কলকাতার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না। যার মধ্যে রাসেলকে লোয়ার অর্ডারে নামানো যদি অন্যতম হয়, তবে ব্যর্থ নারিনের জায়গায় শুভমন গিলকে ওপেন না করানোর সিদ্ধান্তও ভুল বলে বিবেচিত হচ্ছিল বিশেষজ্ঞমহলে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে দিল্লির বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টে প্রথম বার ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে অনবদ্য হাফসেঞ্চুরি করা সত্ত্বেও গিলকে পরের ম্যাচেই লোয়ার অর্ডারে ফেরত পাঠানোটা মেনে নিতে পারছিল না সর্মথকরাও।

অবশেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখাল কলকাতা। গিলকে রাজস্থানের বিরুদ্ধে গত ম্যাচেও ওপেন করতে পাঠিয়েছিল কেকেআর। স্টিভ স্মিথদের বিরুদ্ধে নজর কাড়তে না পারলেও মুম্বই ম্যাচে চূড়ান্ত সফল লিন-গিলের ওপেনিং জুটি। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে আন্দ্রে রাসেলও ঝড় তোলেন ক্রিজে। ক্রিস লিন ও আন্দ্রে রাসেল একবার করে জীবন দান পেলেও নিখুঁত ব্যাটিংয়ে কেকেআরকে বড় রানের ভিত গড়ে দেন শুভমন।

আরও পড়ুন: বিরাটদের হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফে দিল্লি

পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে মালিঙ্গার বলে কায়রন পোলার্ডের হাত থেকে ক্রিস লিন যখন জীবন দান পান, তখন তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৬ হলে ১৮ রান। দলের স্কোর ছিল ৪০। সেখান থেকে লিন নিজের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান হাফসেঞ্চুরিতে। ৭টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ২৭ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন লিন। যদিও হাফসেঞ্চুরির পর খুব বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি তিনি। শেষমেশ ২৯ বলে ৫৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন অজি তারকা। ওপেনিং জুটিতে ৯.৩ ওভারে ৯৬ রান তোলে কেকেআর।

লিন আউট হওয়ার পর আন্দ্রে রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৬২ রান যোগ করেন শুভমন গিল। অবশ্য মাত্র ১ রানের মাথায় রাহুল চাহারের বলে লুইস এর হাত থেকে সহজ জীবন দান পান রাসেল। ইতিমধ্যে ৩২ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গিল। চলতি টুর্নামেন্ট এটি তাঁর দ্বিতীয় অর্ধশতরান। শেষে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৪৫ বলে ৭৬ রান করে ক্রিজ ছাড়েন তিনি।

আরও পড়ুন: কাজে এল না হার্দিকের বিধ্বংসী প্রচেষ্টা, মুম্বইকে হারিয়ে প্লে-অফের আশা জিইয়ে রাখল নাইটরা

বাকি সময়টা ইডেন মাতান রাসেল। ৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৩০ বলে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির গণ্ডি পার করা রাসেল ৪০ বলে ৮০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তিনি ৬টি চার ও ৮টি ছক্কা মারেন গোটা ইনিংসে। তাঁর সঙ্গে ৭ বলে ১৫ রান করে নটআউট থাকেন নাইট অধিনায়ক ডিকে। লিন, গিল ও রাসেলের মিলিত প্রয়াসে কেকেআর নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৩২ রানের বিশাল ইনিংস গড়ে তোলে।