রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী৷ আবেগ, সুষ্ঠু সংস্কৃতির পীঠস্থান৷ রাজ্য, দেশের সীমা পার করে বিদেশখ্যাত নাম তার৷ বিভিন্ন সময়ে সমাবর্তনে উপস্থিত থেকেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীরা৷ সেই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘লুঙ্গি ডান্স’-এর সঙ্গে কোমর দোলালেন ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ৷ আর পড়ুয়াদের এই ‘সংস্কৃতি চর্চা’য় মদত দিতে দেখা গেল অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের একাংশকেও৷ বিশ্বভারতীকে আশ্রমের মর্যাদা দিয়েছিলেন গুরুদেব৷ কিন্তু সে মর্যাদাকে এভাবে কলুষিত হতে হবে তা সত্যিই অভাবনীয়৷

শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান৷ নিজেদের মধ্যে নিজেদের মতো করে উদযাপনের পরিকল্পনা করেছিল বিশ্বভারতীর সঙ্গীতভবনের পড়ুয়ারা৷ এই সেই সঙ্গীতভবন, যেখান থেকে পাশ করেছেন দেশের তাবড় তাবড় সব ব্যক্তিত্ব৷ এই সঙ্গীতভবনের পড়ুয়াদের মেধা, মননের সম্মান করে গোটা দেশ৷ সেই সঙ্গীতভবনেই শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটবে কস্মিনকালেও তা ভাবতে পারেননি কেউ৷

সঙ্গীত ভবনের অধ্যক্ষ নিখিলেশ চৌধুরি, অধ্যাপক অমর্ত্য মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক অধ্যাপক অধ্যাপিকাকে এদিন নাচতে দেখা যায় ইয়ো ইয়ো হানি সিংয়ের গানের তালে৷ অথচ সঙ্গীত ভবনের এই মঞ্চেই কবিগুরুর সময় থেকে হয়ে আসছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷ বসন্ত উৎসব, পঁচিশে বৈশাখ, বর্ষামঙ্গল মত অনুষ্ঠানের মহড়া হয় এখানে৷

কীভাবে সঙ্গীত ভবনের অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটল তা সত্যিই প্রশ্নের দাবি রাখে৷ অবশ্য অধ্যক্ষ নিখিলেশ চৌধুরি এতে কোনও দোষ দেখছেন না৷তিনি সাফ বলেন, আমি এখানে কোনও অপসংস্কৃতি রয়েছে বলে মনে করি না৷ এটি সংস্কৃতিরই একটি অঙ্গ৷

দেখে নিন সেই সঙ্গীত ভবনের ‘লুঙ্গি ডান্স’…

বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মহড়া চলে সঙ্গীতভবনের যে মঞ্চে সেখানেই শিক্ষকদিবসের অনুষ্ঠানে বাজানো হয় শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত চেন্নাই এক্সপ্রেসের ‘লুঙ্গি ডান্স’৷ সঙ্গে পড়ুয়াদের তালে তাল৷ আর সবকিছুকে ছাপিয়ে গেলেন দুই অধ্যাপকের ‘নৃত্যশৈলী’৷ সাদা ধুতি, পাঞ্জাবীতে একজন অধ্যাপক তো মুহূর্তে মাতিয়ে দিলেন সঙ্গীত ভবনের এই মঞ্চ৷ রবীন্দ্রনাথ, রবিকিঙ্করের স্মৃতিধন্য বিশ্বভারতীর এ কী হল! উঠছে প্রশ্ন!