চেন্নাই: বাইশ গজে তাঁর ধুরন্ধর ক্রিকেটমস্তিষ্ক বোধহয় প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ। পাশাপাশি ব্যাট কিংবা উইকেট-কিপিং গ্লাভস হাতে মাহি-ম্যাজিক বরাবরই উঠে এসেছে সংবাদ শিরোনামে। যা স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টান্ত হয়ে গিয়েছে তরুণ প্রজন্মের কাছে। কিন্তু শনিবার চিপকে চেন্নাই ম্যাচ জিতলেও একটি ক্ষেত্রে কাজ করল না মাহি-ম্যাজিক।

আসা যাক আসল ঘটনায়। উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে মাহির নো-লুক রান আউট ক্রিকেটমহলে একটা চর্চার বিষয়। নিজের কর্তব্যে কতটা অনুগত থাকলে এমনটা করা সম্ভব, দেশ-বিদেশে তা নিয়ে চর্চা হয়েছে বহু। শনিবাসরীয় চিপকেও মাহির নো-লুক রান আউট ফের চলে আসতে পারত সংবাদ শিরোনামে। কিন্তু কেএল রাহুলের ভাগ্যের কাছে এদিন ফিকে হয়ে ফিরল মাহির ক্যারিশমা।

আরও পড়ুন: স্বপ্নের অভিষেকে আইপিএলের এক দশকের রেকর্ড ভাঙলেন আলজারি

শনিবাসরীয় চিপকে চেন্নাই-পঞ্জাব ম্যাচে তখন চেন্নাইয়ের ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করছে পঞ্জাবের দুই ব্যাটসম্যান কেএল রাহুল ও সরফরাজ খান। ১৩ তম ওভারের চতুর্থ বলে অন-স্ট্রাইক ব্যাটসম্যান কেএল রাহুল রবীন্দ্র জাদেজার ডেলিভারি অন-সাইডে ঠেলে দিয়ে একটি রান চুরি করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হুঁশিয়ার ধোনি গ্যালারি অভিমুখে বল ধরে ব্যাকহ্যান্ডে উইকেটে থ্রো করেন। বল এসে উইকেটে লাগে এবং আলোও জ্বলে ওঠে। এমনকি ক্রিজ থেকে সেসময় অনেকটাই বাইরে ছিলেন রাহুল। কিন্তু সৌভাগ্যবশত বেল না পড়ায় এক্ষেত্রে বেঁচে যান কিংস ইলেভেন ব্যাটসম্যান। অন্যদিকে দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েও গোটা ঘটনা হাসিমুখে মেনে নেন মাহি।

আরও পড়ুন: বিরাটের উইকেট শিকার থেকে মায়ের মৃত্যুসংবাদ, আলজারি জোসেফকে চিনে নিন

অর্থাৎ রাহুলের ভাগ্যের কাছে এযাত্রায় ‘থালাইভা’র ম্যাজিকও ফিকে হয়ে যায় চিপকে। লক্ষ্যে সফল না হলেও চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে মাহির ফের নো-লুক রান আউটের প্রচেষ্টা। এমনকি ধোনির ভাগ্য সহায় না হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যবহার হওয়া ইলেকট্রনিক বেলের সমালোচনা করছেন অনুরাগীরা। সাধারণত ক্রিকেটে ব্যবহৃত সাধারণ বেলের তুলনায় এই বেল কিছুটা ভারি হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

রান আউটের ক্ষেত্রে ভাগ্য সহায় না হলেও ম্যাচের ভাগ্য এদিন ছিল ধোনির হাতেই। চেন্নাইয়ের ১৬০ রানের জবাবে এদিন রহুল-সরফরাজের জোড়া অর্ধশতরানেও হার বাঁচাতে পারেনি পঞ্জাব। ধোনির দলের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মসৃণ জয় তুলে নেয় ‘ইয়েলো ব্রিগেড’।