প্রতীকী ছবি

জয়পুর : মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল রাজস্থান। মঙ্গলবার ৩.২ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় রাজস্থানের ঝুনঝুনুতে। তবে কোনও প্রানহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ কন্ট্রোল রুমের তরফ থেকে এই খবর জানানো হয়েছে। জয়পুরের আবহাওয়া দফতরের প্রধান শিব গণেশ জানান, ভূমিকম্পের উৎস স্থল মাটি থেকে ১০ কিমি গভীরে ছিল।

এদিকে, এপ্রিল মাসেই চতুর্থবার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের রাজধানী শহর জয়ে শ্রী রাম দিল্লি। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির পীতামপুরা এলাকায় সকাল ১১টা বেজে ২৮ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজিকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানায়, “রিখটার স্কেলে ২.২ তীব্রতার মৃদু কম্পন বোঝা গিয়েছে”। তারও সপ্তাহখানেক আগে, ৩.৪ তীব্রতার একটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল উত্তরপূর্ব দিল্লির সোনিয়া বিহার অঞ্চল। কোনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে কম্পন অনুভূত হয়।

লকডাউনে এই নিয়ে চারবার ভুমিকম্প অনুভূত হল রাজধানী শহর দিল্লিতে। এর আগে, মে মাসের ১০ তারিখে উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওয়াজিরাবাদে ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৫। এপ্রিল মাসের ১২ ও ১৩ তারিখ পরপর ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল দিল্লি। এপ্রিলের ১৩ তারিখের ভূমিকম্প বোঝা গিয়েছে। সোমবার রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ২.৭।

সোমবার ঠিক দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। উৎসস্থলের গভীরতা ছিল ৫ কিলোমিটার। তার আগের দিন অর্থাৎ এপ্রিলের ১২ তারিখে কম্পন বোঝা গিয়েছে রাজধানী দিল্লি সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৫। প্রায় পাঁচ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। পূর্ব দিল্লি ছিল এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। ৫০ দিনের বেশি সময় ঘরবন্দি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বারবার ভূমিকম্প আতঙ্কিত করছে দিল্লিবাসীকে।

দিল্লি ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি অনুযায়ী, দিল্লিতে ভূমিকম্পের হার সাধারণত ভূতাত্ত্বিক গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই দেখা দিয়েছে যা ‘দিল্লি-হরিদ্বার সেতুবন্ধ’ (Delhi-Hardwar Ridge) নামেও পরিচিত। এটি দিল্লির উত্তরপূর্বে হিমালয় পর্বতের দিকে গঙ্গা-অববাহিকায় পলিজভূমির নীচের অংশে আরবল্লী পর্বতমালার এক্সটেনশনের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

জয়ে শ্রী রাম দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এবং দিল্লির নিকটবর্তী শহর যেমন, আলওয়ার, হিসার, সোনেপাত, আজমের ইত্যাদি শহরে এর আগে ভূকম্পীয় কার্যকলাপ দেখা গিয়েছে। তবে একে আমফানের আতঙ্ক, তার ওপর ভূমিকম্প দোসর। সব মিলিয়ে সময়টা যে ভালো যাচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব