কলকাতা২৪X৭: একজন ক্রিকেট খেলেন , অন্যজন স্পোর্টস অ্যাঙ্কর। কিন্তু যিনি মাঠে নেমে খেলেন তাঁর কেরিয়ার তেমন উজ্বল নয়। রয়েছে কয়েকটি ঝলকমাত্র। কিন্তু স্ত্রী’র কেরিয়ার ক্রমবর্ধমান। যেমন তাঁর রূপ তেমন তাঁর গুণ। স্বামীর খ্যাতির বিড়ম্বনা বাড়ে যখন তাঁর বাবা ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হন। মাঠে মাঠের বাইরে এই খ্যাতির পার্থক্য নিয়ে প্রায়ই নানা কথা শুনতে হয় দম্পতিকে। তবু ওঁরা ভরসা হারাননি নিজেদের ভালোবাসার প্রতি। বোঝা যাচ্ছে কি কাদের কথা বলা হচ্ছে?

মায়ান্তি ল্যাঙ্গার ও স্টুয়ার্ট বিনি। অজানা বাধা সবসময়েই সঙ্গী হয়েছে এই জুটির। তবু এসব বাধাকে ওঁরা হেলায় হারিয়েছেন। সেখানে স্টুয়ার্ট যদি ব্যাট হাতে বল তাড়া করে সমস্যা সরিয়েছেন তো মায়ান্তি নিজের কথা বলার ক্ষমতায় সমস্ত বাহ্যিক সমস্যার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিনিয়ত করছেন লড়াই। ২০১০ সালে ভারতীয় ফুটবলে স্পোর্টস উপস্থাপিকা এলেন যিনি অসাধারণ ভাবে ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করছেন। যেমন তাঁর লুক তেমনই খেলা বিশ্লেষণের ক্ষমতা। দু’য়ে মজেছিল ভারতের স্পোর্টস দুনিয়া।

একে একে ফুটবল থেকে সুইচ করে কমনওয়েলথ গেমস হয়ে হাজির ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের আঙিনায়। প্রথমেই চমক আইপিএলের ঝকঝকে দুনিয়ায়। সরাসরি এন্ট্রি ২০১১ বিশ্বকাপে উপস্থাপিকা হিসাবে। আর ফিরে তাকাতে হয়নি মায়ান্তিকে। কিন্তু লড়াইটা কোনওদিন পিছু ছাড়েনি স্বামী স্টুয়ার্টের। আন্তর্জাতিক কেরিয়ার অলরাউন্ডার হিসাবে থিতু হতে চেয়েছিলেন। চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।

অনেকেই হয়তো ভুলে গিয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্টুয়ার্টের বিধ্বংসী সুইং বোলিং। রায়নার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিল ভারত। স্যাঁতস্যাঁতে উইকেটে নাকানিচোবানি খেয়ে ১০৫ রানে অল আউট। কে ভেবেছিল ওই ম্যাচ ভারত জিতবে? স্টুয়ার্টের বোলিং হাত ভাবিয়েছিল। ভাবনাকে সত্যিও করেছিল। ৪.৪ ওভারে ৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট। আর যায় কোথায় পড়শি দেশ। ল্যাজেগোবরে হয়ে অল আউট মাত্র ৫৮ রানে।

 

২০১৪ সালের ওই ম্যাচের পর ইংল্যান্ডে রজার বিনির পুত্র ৭৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। হারা ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয় ভারত। ছিলেন ২০১৫ বিশ্বকাপের দলে। ম্যাচ পাননি। বিশ্বকাপের পর থেকে তাঁকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। আজকাল আইপিএলেও দল পান না।

মারাত্মক সফল স্ত্রী’য়ের ফেলুরাম বর। চকমকে দুনিয়ায় এখানেই ‘ক্ল্যাশ’ হয়। সময় যায় সমস্যা বাড়ে বই কমে না। এই তো কিছুদিন আগেই স্ত্রী মায়ান্তিরর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে নেটিজেনের ট্রোলের শিকার হয়েছিলেন। স্বামীকে সামনে থেকে গার্ড করেন স্ত্রী। বিশ্বাসটা হারায়নি দুজনের। আর সেটাই হয়তো এই ২০২০ সালে দাঁড়িয়েও তথাকথিত পুরুষশাসিত সমাজে দাঁড়িয়ে স্ত্রী মায়ান্তি হয়ে ওঠেন স্বামী স্টুয়ার্টের রক্ষাকর্ত্রী। ২২ গজের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে এক লড়াই লড়ছেন বটে এই জুটি।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও