স্বাগত ঘোষ: প্রিতমের মিউজিক ক্যারিশমায় ছবির গানগুলো অনেকের কলার টিউনে জায়গা করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু রিয়েল লাইফ জুটি কার্তিক-সারা রিল লাইফে কতটা আবেদন রাখলেন, আশায় ছিল সিনেপ্রেমী দর্শককুল।

বদলে কার্তিক-সারা কী দিলেন? তাদের কেরিয়ারের বেস্ট পারফরম্যান্স। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। পর্দায় নিজেদের সেরাটা দিলেন দু’জনে। কিন্তু তালটা কাটালেন পরিচালক ইমতিয়াজ আলি নিজেই।

সারা আলি খান ছাড়াও ছবির অনেকটা জুড়ে ছিলেন আরেক অভিনেত্রী আরুষি শর্মা। কিন্তু পরিচালক তাঁকে ব্যবহার করলেন কই?

আসা যাক ছবির গল্পে। ২০০৯ ইমতিয়াজেরই পরিচালিত ছবি ‘লাভ আজ কাল’র সিক্যুয়েল এটি মোটেই নয়, বরং রিক্রিয়েশন বলা চলে। কেরিয়ার এবং রিলেশনশিপের মধ্যে ব্যালান্স করতে গিয়ে কোথাও নিজেদেরকেই হারিয়ে ফেলছে এযুগের প্রেমিক-প্রেমিকারা (ব্যতিক্রম নিশ্চয় আছে)। তেমনই এক পটভূমিতে ২০২০-তে দাঁড়িয়ে এগিয়েছে বীর (কার্তিক) জোই’র (সারা) প্রেমের গল্প।

বীরকে প্রেমিক হিসেবে পেতে নিজের কেরিয়ার-কমিটমেন্ট বিসর্জন দিতে নারাজ জোই। অথচ জোইকে নিয়ে বীর টু-মাচ সিরিয়াস। অভিব্যক্তিতে বোঝালেও সেটা প্রকাশ করতে পারে না সে। এমন সময় তাঁর 90’s লাভ স্টোরি নিয়ে গল্পে হাজির রঘু (রণদীপ হুডা)।

এমনই এক সিরিয়াস রিলেশনের চক্করে মেডিকেল স্টুডেন্ট রঘু সব ছেড়েছুড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন দিল্লিতে। যদিও ছবিতে রঘু-লীনার (আরুষি) প্রেমকাহিনীতে বাধা তাদের রক্ষণশীল সমাজ।

লীনার প্রতি তাঁর ভালোবাসার গল্প আউড়ে বীরের প্রতি জোইকে দুর্বল করে তোলেন রঘু। হঠাৎই ভবিষ্যতে ইয়াব্বর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি তৈরির স্বপ্নে বিভোর জোই দুবাই যাওয়ার অফার প্রত্যাখ্যান করে বসে সফটওয়্যার ডেভেলপার বীরের জন্য। এজন্য ভুক্তভোগী মায়ের বকুনিও কম সহ্য করতে হয়নি।

এমন সময় গল্পে টুইস্ট আনলেন পরিচালক।

ফিলোজাফার গাইড রঘুকে তাঁর নিজের পানশালায় এক ঘনিষ্ঠ মহিলার সঙ্গে দেখে ফেলেন জোই। প্রথমে ভেবেছিলেন এই বুঝি তাঁর ফিলোজাফার গাইডের প্রেমিকা, যার জন্য শহর ছেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু জোই’র ভুল ভাঙল খানিক বাদেই। জানলেন দিল্লিতে এসে বদলে গিয়েছেন রঘু। শয্যাসঙ্গী হয়েছেন এমনই অসংখ্য মহিলার।

হঠাৎই বীরের থেকে ছুটে যেতে থাকে জোই’র মন। কেরিয়ার ফের রিলেশনকে সরিয়ে মুখ্য জায়গা নেয় জোই’র জীবনে। বীরকে প্রত্যাখ্যান করে বসে জোই।

সব দেখেশুনে চুপ থাকতে পারেন না জোই’র ফিলোজাফার গাইড। ওদিকে বীরের মনে হয় জোই একদিকে ঠিকই করেছে। অর্থাৎ তারও উচিৎ কেরিয়ারে মনোসংযোগ করা। আর সে জোইকে পেতে চায় কোনওরকম কম্প্রোমাইজেশন ছাড়াই। ঘটনা পরম্পরায় নতুন চাকরি নিয়ে দূরদেশে পাড়ি জমায় বীর। রঘু-বীরের দ্বৈত চরিত্রে তাঁর ফ্যানেদের আরও প্রিয় হয়ে উঠবেন কার্তিক নিঃসন্দেহে।

শেষমেষ কী গিঁট খুলবে বীর-জোই’র সম্পর্কের। জোই’র ফিলোজাফার গাইড কী ইতিবাচক কোনও বার্তা বয়ে আনবেন বীর-জোই’র রিলেশনে। সেজন্য যে ধৈর্য্য নিয়ে রিভিউটা পড়লেন তার চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্য্য আপনাকে ধরতে হবে সিনেমা হলে। কোথাও গিয়ে দৃশ্যগুলো আপনাকে মনে করাবে বেদ-তারার (তামাশা) কথা। কোথাও গিয়ে ‘জাব হ্যারি মেট সেজাল’র মতো মোনোটোনাস লাগবে রঘুর একের পর এক কেচ্ছার কথা।

আসলে খুব কম ছবিতে ইমতিয়াজ তাঁর ঘরানা থেকে বেরোতে পেরেছেন। আর যেটাতে বেরিয়েছেন সেটা ম্যাজিক হয়ে রয়ে গিয়েছে। উদাহরণ ‘হাইওয়ে’। ‘জাব উই মেট’ তাঁর গতানুগতিক ঘরানার প্রথম ব্লকব্লাস্টার। তাই ইমতিয়াজের নাম উঠলে ‘জাব উই মেট’ প্রথমেই আসবে। পরে ‘রকস্টার’ও কালজয়ী হয়ে রয়ে গিয়েছে যত না পরিচালকের জাদুতে, তার চেয়ে ঢের বেশি রণবীর কাপুরের নিখুঁত, মুগ্ধ করা পারফরম্যান্সে।

আসলে কার্তিক-সারার এফোর্টটা অহেতুক গল্পের চর্বিত চর্বন করে এ ছবিতে নষ্ট করেছেন স্বনামধন্য পরিচালক। তাই যারা ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছেন ছবিটি, তাদের বাড়ি ফিরে একবার ইচ্ছে করতে বাধ্য ২০০৯-এর ‘লাভ আজ কাল’এ ফিরে যেতে।