নয়াদিল্লি: সীমান্ত নিয়ে ভারত-চিনের সমস্যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে চিন তাই এবার শক্তহাতে তা মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। উভয় তরফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও স্থগিত রাখা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে সীমান্তে শান্তি এবং শান্তি রক্ষার পরিস্থিতি বজায় রাখা জরুরি।

একাধিক বার চিনের সঙ্গে ভারতের এ নিয়ে কথা হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি। ইতিমধ্যেই লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে ৫০০০ সেনা মোতায়েন করেছে চিন। পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য ভারতের তরফেও এবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গালোয়ান উপত্যকা ঘিরে এই ঘটনায় লাদাখ সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে বাড়ছে আতঙ্ক।

জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালের পরে ভারতের তরফে চিনকে রুখতে এত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই বহু বিতর্কিত কালাপানিকে নেপালের মানচিত্রে জুড়ে দেওয়া হয়েছে যা ভারতের অংশ হিসেবে পরিচিত। এমন সীমান্ত কবজা করতে চিনের মদতেই এমন কাজ হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, স্থলসেনা, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা একসঙ্গে ইনপুট তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হতে পারে সে ব্যাপারে আলোচনা করেছে তিন বাহিনীর অফিসারেরা।

গত কয়েকদিন ধরে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছে লাদাখে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে দুই দেশের সৈন্য। মূলত প্যাংগং তোসো লেক ও গালোয়ান ভ্যালির কাছে এই ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোকলামের থেকেও ভয়াবহ সংঘাত হতে চলেছে এবারে। ওই অংশে কোনও সীমান্ত সমস্যা নেই চিনের সঙ্গে। তাও ওই অংশে চিনের উপস্থিতি ভাবাচ্ছে ভারতকে।

সীমান্তে শুধু তাঁবু খাটিয়ে নয়, রীতিমত লাঠি, পাথর এনে অপেশাদার সেনার পরিচয় দিয়েছে চিন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিকে কার্যত লাঠি নিয়ে এগিয়ে এসেছিল তারা। তবে লাদাখ সীমান্তে এইরকম চাপা উত্তেজনা বহুবছর দেখা যায়নি বলেই জানিয়েছেন লাগোয়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষরা। গত ৫ মে সন্ধেয় চিনের ২৫০ সেনা যে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে, তার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে চলে গিয়েছে।

একই রকম ঘটনা ঘটে ৯ মে নর্থ সিকিমে। ৫ তারিখে রীতিমত লোহার রড নিয়ে সংঘাত চলে দুই পক্ষের মধ্যে। পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ও ঘটে। সেখানকার মানুষরা জানিয়েছেন, চুপি চুপি ছোট ছোট অংশকে নিজেদের কবজায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে চিন, সেখানে ভারতের হস্তক্ষেপ চাইছে তাঁরা। চিনকে রুখতে বদ্ধপরিকর ভারতও। প্রসঙ্গত, একদিকে যখন মহামারী গ্রাস করছে গোটা পৃথিবীকে সেই সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছে চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং। চিন সীমান্তে পরিস্থিতি থমথমে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প