আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নুনের ব্যবহার। জানা যায়, হাজার হাজার বছর আগে থেকে মানুষ খাওয়ারে নুনের ব্যবহার শুরু করে। তবে তখনকার এই নুন আজকের মত সমুদ্রের জল প্রক্রিয়াজতকৃত নুন নয়। তখন লবণ সংগ্রহ করা হতো খনি থেকে। সেই সময়ের লোকেরা নিজস্ব উপায়ে খনি থেকে লবণ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শিখে নিয়েছিল। চিনের সানশি প্রদেশের ইয়নচুনে এরকম এক খনির কথা জানা যায়। এটাই এখন পর্যন্তও পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন খনি যেখান থেকে মানুষ মাটি খুঁড়ে নুন বের করতে পারতো।

একসময় নুন ছিল দুষ্প্রাপ্য! প্রাচীন গ্রিক বীর আলেক্সান্ডার ভারতের একাংশ জয় করার পর তাঁর সঙ্গে থাকা শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী যা লুটপাট করত, সেখানে তিনি তিনটি জিনিস সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতেন৷ এক, সোনা দুই, নারী ও তৃতীয়টি হল নুন!

শোনা যায়, ‘স্যালারি’শব্দটি ‘সল্ট’থেকে এসেছে। সল্ট শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ লবণ বা নুন। বলা হয়ে থাকে, প্রাচীন রোমে সৈন্যবাহিনীতে নুন কেনার জন্য যে টাকা দেওয়া হতো সেটাই স্যালারি। সেখান থেকেই শব্দটির প্রচলন। ‘কার নুন খাও’ বা ‘যার নুন খাই, তার গুণ গাই’-এর অর্থ কোনো রাজার বা সৈন্যদলের নুন খাও অর্থেই রয়ে গেছে প্রাচীন নুন খাওয়ার তুলনাটি। তেমন ‘নমক-হারাম’ বলা হয় বিশ্বাস হারালে বা আনুগত্যের খেলাপ করলে। ‘সোলজার’ এবং ‘স্যালাড’ শব্দটিও ‘সল্ট’থেকে এসেছে।

বর্তমানে পোল্যান্ড, তুরস্ক, বলিভিয়াসহ আরও কিছু দেশে এখনও নুনের খনির দেখা মেলে। অস্ট্রিয়ার একটি এলাকার নাম সালজবুর্গ যার মানে হল লবণের শহর। এই এলাকাটি সতেরো কিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে একটি লবণের খনি। তেমনি সেল্টিক বা স্কটলেন্ড, গ্রীক এবং মিশরের বিভিন্ন এলাকার নাম হয়েছে এই লবণের কারণে।

খাওয়ার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন কাজে নুনের ব্যবহার শুরু হয়ে আসছে অনেক বছর আগে থেকেই। হাজার হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়রা লবণকে পবিত্র বলে মনে করত। তাই তারা মৃত মানুষের কবর দেবার সময় লবণ রেখে দিত। লবণের লবণ মাখিয়ে খাবার সংরক্ষণ করার উপায় বের করেছিলেন মিশরীয়রাই। মিশরীয়রা মাছে লবণ মাখিয়ে বিক্রি করতো ফিনিশিয়দের কাছে। লবণের নানান ধরনের ব্যবহারের ফলে লবণের ব্যবসা অনেক জমজমাট হয়ে ওঠে। লবণ বিক্রির জন্য আফ্রিকায় একটি আলাদা রাস্তা তৈরি হয়েছিল। সেই রাস্তা আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে টুয়ারেগ নামের এক জাতি বছরে প্রায় ১৫০০০ টন লবণ নিয়ে যেত।

অনেক ধর্মে লবণ খুব পবিত্র ব্যাপার। জাপানের শিন্টোরায় যে কোন মানুষ বা স্থানকে পরিশুদ্ধ করতে লবণ ছিটিয়ে দেয়া হয়। এ জন্য সুমো কুস্তীগিরদের উপর লবণ ছিটিয়ে দেয়া হয়।

গান্ধীজির লবন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের কথা কোন ভারতবাসী না জানেন৷ নুনের উপর ইংরেজ সরকার কর বসানোর প্রতিবাদে মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলন করেছিলেন৷

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I