তমলুক: জগন্নাথই ফিরিয়ে দিল মমতার সংসার৷

দু’বছরের চেষ্টার পর অবশেষে স্বামী সংসার ফিরে পেল ২৮ বছরের এই গৃহবধূ৷ তবে এর জন্য বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয় পুলিশ ও হলদিয়ার নিমতৌড়ির হোম কর্তৃপক্ষকে৷ কারণ মমতা মানসিক ভারসাম্যহীন৷ কথা বার্তায় অসংলগ্নতা থাকায় কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যা তা বুঝতে সময় কেটে যায়৷ তবে ভাষা শুনে বুঝতে পারা যায় সে ওডিশার বাসিন্দা৷ অথচ চলে এসেছে হলদিয়ায়৷ কীভাবে সে হলদিয়ায় এসে পড়ে তা ধীরে ধীরে জানতে পারেন তদন্তকারীরা৷ সেটা জানতে হলে দু’বছর আগে ফিরে যেতে হবে৷

স্বামীর সাথে মমতা উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি যাচ্ছিল৷ সেখানে তাঁর বাপের বাড়ি৷ কিন্তু খুর্দা রোড স্টেশনে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়৷ পরে কী ভেবে সে উঠে পড়ে হাওড়া-জগন্নাথ এক্সপ্রেসে৷ পৌঁছে যায় হলদিয়ায়৷ এরপর হলদিয়া থানার পুলিশ মমতাকে উদ্ধার করে৷ মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখতে পেয়ে নিমতৌড়ির গৃহহোমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়৷

মমতাকে বাড়ি ফেরাতে পুলিশ যেমন তৎপর ছিল তেমনই উদ্যোগ নিতে দেখা যায় হোমের দিদিদের৷ শুরু হয় মমতাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই৷ অনেক চেষ্টার পর তাঁর বাড়ির সঠিক ঠিকানা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়৷ মানসিক ভারসাম্যহীন মমতাও বারবার স্বামী ও ছেলেমেয়েদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আকুতি মিনতি করতে থাকে৷ মমতার কাছ থেকে ঠিকানা পেয়ে হোমের সুপার সুদেষ্ণা মাইতি, কাউন্সিলর আলপনা মাইতি ওডিষার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে।

অবশেষে হোমের দিদিদের চেষ্টায় প্রায় দু’বছর পর স্বামী সন্তানদের ফিরে পায় মমতা৷ মমতাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ হলদিয়া আদালতেরও ছিল৷ সেই নির্দেশ মতো পরিবারের কাছে ফিরে গেল মমতা। এদিকে রথযাত্রার পূর্বে মমতাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ায় খুশি হোমের দিদিরা। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ সামন্ত জানান, মমতাকে হোমে রেখে সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আনন্দে আমরা সবাই আনন্দিত। জগন্নাথ এক্সপ্রেসে উঠে ঘুরতে ঘুরতে সে হলদিয়া চলে এল৷ আর সেই জগন্নাথ এক্সপ্রেসে চড়ে পরিবারের সাথে ফিরে গেল নিজের পরিবারের কাছে৷ তাও জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার পূর্বে৷ সব যেন জগন্নাথ দেবের ইচ্ছেতেই হল।