স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর : উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টারির অস্ত্র পাচার কাণ্ডে ধৃত আরও ১৷ এসটিএফের জালে ধরা পড়ল আরও এক অভিযুক্ত। ধৃতের নাম প্রেম চাঁদ কুর্মি (৫০)৷

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইছাপুর মায়াপল্লী এলাকা সংলগ্ন ১২ ফুট রাস্তার পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করে এসটিএফ৷ উল্লেখ্য এসটিএফ গত প্রায় এক বছর ধরেই এই অস্ত্র পাচার কাণ্ডে তদন্ত করছে। এর আগে এই ঘটনায় ২ জন রাইফেল ফ্যক্টারির উচ্চ পদস্থ কর্মী সহ বেশ কয়েকজন ধরা পড়েছে। এবার এসটিএফের জালে ধরা পড়ল ইছাপুরেরই এক লরি চালক৷

এসটিএফ সূত্রের খবর, ওই লরি চালকের লরিতে করেই ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টারির অস্ত্র, আবর্জনা স্তুপের ভিতরে লুকিয়ে বাইরে পাচার করা হত৷ কয়েকমাস আগে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের জেরা করেই এই অস্ত্র পাচার কাণ্ডে জড়িত হিসেবে প্রেম চাঁদ কুর্মির নাম জানতে পারা যায়৷ তারপর থেকে এসটিএফের আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন৷

শুক্রবার সেই সুযোগ সামনে আসনে৷ প্রেম চাঁদ পেশায় লরিচালক৷ তার নিজের একটি লরি আছে। সেই লরিটিই রাইফেল ফ্যাক্টারির ভিতরে যেত ফ্যক্টারির আবর্জনা তুলে বাইরে নিয়ে আসার জন্য৷ এসটিএফ মনে করছে সেই লরিতে আবর্জনা স্তুপের মধ্যে লুকিয়ে পাচার করা হত অস্ত্র বা অস্ত্র তৈরীর যন্ত্রাংশ, যা পৌঁছে যেত ভিন রাজ্যে দুষ্কৃতীদের হাতে৷

কে এই প্রেম চাঁদ কুর্মি? খোঁজ খবর নিতে আমাদের উত্তর ২৪ পরগনার প্রতিনিধি পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রেম চাঁদের ইছাপুরের বাড়িতে৷ সেখানেই আমাদের প্রতিনিধিকে প্রেম চাঁদের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী জানায়, “আমার স্বামী ফুল কিনে বাড়ি আসছিল, সেই সময় পুলিশ রাস্তা থেকে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে গিয়েছে৷ তবে আমার স্বামীকে কেন গ্রেফতার করা হল তা আমরা জানতে পারিনি৷ আমি দেখলাম পুলিশ ওকে গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে৷ আমাদের লরিটিও পুলিশ নিয়ে চলে গিয়েছে৷”

আরও পড়ুন : বিধানসভা চত্ত্বরেই ফাটল গ্রেনেড!

প্রেম চাঁদের বিবাহিত মেয়ে মঞ্জুরা বিবি জানায়, “আমার বাবা নির্দোষ, বাবাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা অস্ত্র পাচার কাণ্ডে আগে ধরা পড়েছে তারাই আমার বাবার নাম পুলিশকে বলেছে। যদিও তাদের কাছে কোনও প্রমান নেই৷ বাবা আগে লরির খালাসী ছিল৷ ছয় সাত বছর হল লরি কিনে নিজেই চালাত৷ রাইফেল ফ্যাক্টারির সঙ্গে সরাসরি বাবার কোনও যোগাযোগ নেই৷ শুধু ফ্যাক্টারির আবর্জনা লরি করে বাইরে বের করে আনত৷ আমার বাবা অস্ত্র পাচারকারী নয়”৷

যদিও ঘটনার সত্যতা জানতে ইছাপুর কুমোরপাড়ার বাসিন্দা লরি চালক প্রেম চাঁদ কুর্মিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে এসটিএফ৷