তিনি মহাকাল, তিনি দেবতাদের দেব অর্থাৎ দেবাদিদেব বা মহেশ্বর, তিনি নীলকণ্ঠী, তিনি শিব৷

নামটা শুনলেই চোকের সামনে ভেসে ওঠে হাতে ত্রিশূল, মাথায় অর্ধচন্দ্রসহ পাগড়ী, গলায় সাপ ও বাঘ ছাল পরিহিত এক বলিষ্ঠ
পুরুষের প্রতিচ্ছবি৷ তবে মনে মনে প্রশ্ন জাগে কেন বাঘের ছাল পড়েন ভোলানাথ? পুরাণে কথিত রয়েছে নানান কথা৷

অনেকের মতে, শিবের গায়ের বাঘ ছাল ইঙ্গিত করে তাঁর শরীরে পশুর সমান শক্তিকে৷ তবে শিবপুরাণে এই বিষয়ে একটি গল্প কথিত রয়েছে৷ বলা হয়েছে, বিবস্ত্র অবস্থায় শিব বিশ্বের বিভিন্ন আশ্রমে ভ্রমণ করে বেড়াতেন৷ এক সময় তিনি এমন একটি আশ্রমে পৌঁছান যেখানে অনেক শক্তিশালী সন্ন্যাসী তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে বসবাস করতেন৷ বিবস্ত্র শিবের পুরুষালি চেহারার প্রতি আকর্ষিত হয়ে পড়েছিল সেই সমস্ত সন্ন্যাসীদের স্ত্রী-য়েরা৷ ফলে নষ্ট হচ্ছিল আশ্রমের শান্তি-শৃঙ্খলা৷ সেই সময়ে সমস্ত ঋষিরা মিলে শিবকে বস্ত্র পড়ানোর পরিকল্পনা নেন৷

শিবের দৈনন্দিন যাতায়াতের পথে একটি ফাঁদ পেতে রাখেন ঋষিরা৷ সেই ফাঁদে শিব পড়তেই তারা একটি বাঘকে শিবের উদ্দেশে ছেড়ে দেন৷ কিন্তু অতিসহজেই বাঘটিকে হত্যা করেন ভোলানাথ৷ তারপরে বিজয়ের আনন্দে পড়ে ফেলেন বাঘের ছাল৷ এরপরেই সন্ন্যাসীরা বুঝতে পারেন তাদের আশ্রমে আগত ব্যক্তি কোনও সাধারণ মানুষ নন, স্বয়ং ভগবান৷ তখন তারা শিবের কাছে ক্ষমা চান৷

সেই থেকেই বাঘ ছাল পড়তে শুরু করেন মহেশ্বর৷ কোনও নিরীহ জন্তুর সঙ্গে লড়াই করে জয় লাভের আনন্দে নন, তিন লোকের অধীশ্বর হওয়ার আনন্দে৷