বাবার অবাধ্য ছিল মেয়েটি৷ তিন বোন মিলে যখন গান শিখত বাবার কাছে, তখন খানিকটা অভিনয় করেই বাকি দুই বোনকে টেক্কা দিত৷ বাবাকেও খানিকটা বোকাই বানাত৷ পরে বড় হয়েও বাবার পথ থেকে তাঁর পথ ক্রমশ সরে সরেই গিয়েছে৷ আজ জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে গানে গানে বাবার কাছে তাই ‘ক্ষমা’ চাইতে চান লোপামুদ্রা মিত্র৷ রবীন্দ্রনাথের গানে তাঁর এবারের অ্যালবাম ‘ ক্ষমা করো প্রভু’, বাবার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা৷

বাবা চাইতেন, রবীন্দ্রনাথের গান ছাড়া আর কোনও গান গাইবেন না তিনি৷ তিনি কথা শোনেননি৷ ছোটবেলায় বেশি হাত নেড়ে গান গাইতেন বলে বকা খেয়েছেন, কিন্তু পরবর্তীকালে গান গাওয়ার সময় হাত নাড়া থামাননি৷ বাবার কোনও কথাই প্রায় শোনেননি৷ উলটে জেদ ধরে বসেছিলেন, যেদিন এইচএমভি থেকে রেকর্ড বেরবে, সেদিন দেখিয়ে দেবেন৷ টানা এক বছর বাবার সঙ্গে কথাও বলেননি৷ অভিমানে বাবা চলে গিয়েছেন৷জীবনের অনেকটা পথ হাঁটতে হাঁটতে আজ শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র অনুভব করতে পারেন, বাবাকে সেদিন ভুলই বুঝেছিলেন৷ আজ তাই তিনি ‘ক্ষমা’প্রার্থী, তবে গানে গানেই৷ বাবার শেখানো গানে, বাবার শেখানো গায়কিতেই তার এবারের পুজো অ্যালবাম ‘ক্ষমা করো প্রভু’৷

এ অ্যালবামে থাকছে ৯ টি  পুজো পর্যায়ের গান৷ সঙ্গীতায়োজন করেছেন দুর্বাদল চট্টোপাধ্যায়৷ ‘‘বাবার সঙ্গে আমার খুব ঝগড়া ছিল গান নিয়ে৷ এতবছর পর মনে হচ্ছে, মানুষটি নেই, এই গানগুলো দিয়েই তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই৷ এটাই আমার পুজোর গান, বাবার প্রতি ট্রিবিউটও,’’ বললেন লোপামুদ্রা মিত্র৷ রবীন্দ্রানাথের গানের অ্যালবাম তিনি আগেও করেছেন, করেছেন নানা পরীক্ষা নীরিক্ষাও, তবে এ অ্যালবামের কথা বলতে গিয়ে স্পষ্টতই ‘ইমোশনাল’ তিনি৷

লোপামুদ্রা প্রোডাকশনের ব্যানারেই প্রকাশিত হয়েছে এ অ্যালবাম৷ প্রতি অ্যালবাম বিক্রি থেকে ৫০ টাকা করে নেপালের ভূমিকম্প দুর্গতদের সাহায্যের জন্য দেওয়া হবে বলেও জানালেন তিনি৷

সরোজ দরবার, মিতুল দাস