সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : হাওড়া থেকে বর্ধমান। তাঁর পূজার স্থান পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু যেখানেই তিনি গিয়েছেন ‘লুটে’ নিয়েছেন হৃদয়। বিলিয়েছেন অপার ভালোবাসা। তিনি হাওড়া জেলার পাঁচলার লুটেরা কালী মা।

১৭৫৬ সাল। সাপুরের জমিদার বাড়ির কালী পূজা ছিল বলে জানা যায়। এরপরে পূজা হস্তান্তর হয় বর্ধমানের রাজার হাতে। একসময় রাজ পরিবারের ক্ষমতা হ্রাস পায়। ডাকাতদের হাতে গিয়ে পড়ে সেই পুজো। এই ডাকাতরা লুট করে নিয়ে এসে মা’কে পূজা দিত। সেই শুরু জমিদার পরিবারের মায়ের লুটেরা কালী হয়ে ওঠা। পুজো ফেরে ‘হাওড়’ অঞ্চলে। ডাকাতদলের হাত থেকে পুজো ফের হস্তান্তরিত হয়। পুজোর দায়িত্ব নেন সাঁকরাইলের জমিদার।

২০০ বিঘার উপর ব্যাপক ধুমধাম করে লুট কালীর পুজো হত। তবে এই সময় লুট কিভাবে হত তার কোনও সঠিক তথ্য মেলেনি। বর্তমানে পূজার দায়িত্বে সাহাপুর সার্বজনীন পুজো কমিটি।

কমিটির প্রবীণ সদস্য সতীব্রত ঘোষ বলেন, “এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ডাঃ তারাপদ রায় এই পুজোকে নিজের বলে দাবি করতে শুরু করেছিলেন। সেও প্রায় ১৯৫০ সালের ঘটনা। পুজোর জায়গা বেড়া দিয়ে রাখত। গ্রামের কাউকে পুজোয় অংশ নিতে দিত না।আমরা আদালতে গিয়ে ফয়সালা করি। তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট এই মামলায় আমাদের অনেক সাহায্য করেছিলেন।”

চিন্ময় পালধি বলেন, “এখন মায়ের যে ভোগ এবং পুজো পড়ে সেটা লুট হয়। গ্রামের মানুষ আনন্দ করে এই লুটে অংশগ্ৰহণ করেন। পুজোর ঘটে পুজো পড়ার আগেই সব লুট হয়ে যায়। মা এতেই খুশি।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু অলৌকিক ঘটনাও রয়েছে। লুটের সময় মা’য়ের দিকে তাকালে মনে হয় মৃন্ময়ী মূর্তি দুলছে। অর্থাৎ মা চিন্ময়ী হয়ে ওঠেন বলে বিশ্বাস। একবার এক পুলিশ অফিসার এই লুট পদ্ধতি বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল। মারা গিয়েছিল সেই পুলিশ।” এখনও মায়ের পুজোয় প্রায় ৪০ টি ছাগ বলি হয়। প্রায় ২৭০ বছর। সরস্বতী নদী হারিয়ে গিয়েছে কিন্তু লুট কালীর অপার মহিমায় কোনও পরিবর্তন হয়নি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I