নয়াদিল্লি: দিল্লির দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শীলা দীক্ষিত ৷ তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় দিল্লিতে পরপর তিনটি নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস জয়লাভ করে। তবে ডিসেম্বর ২০১৩ সালে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে নতুন দিল্লি আসনে তিনি পরাজিত হন আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়ালের কাছে এবং তখন অরবিন্দ কেজরীওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হন।

তারপরে কিছুদিনের জন্য কেরালার গভর্নর ছিলেন। তবে ২৫শে ২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জন্য প্রধান পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হলেও তবে পরে তিনি তা প্রত্যাহার করে নেন। তাঁকে ১০ জানুয়ারি ২০১৯ সালে দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত করা হয়।

১৯৩৮ সালের ৩১ মার্চ পাঞ্জাবেরর কাপুরথালায় একটি পাঞ্জাবী ক্ষত্রি পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন শীলা কাপুর। তিনি নতুন দিল্লিতে কনভেন্ট অফ জেসস অ্যান্ড মেরি স্কুল থেকে পড়াশোনা করেন এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরান্ডা হাউস থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর আইএএস অফিসার বিনোদ দীক্ষিতের সঙ্গে শীলার বিবাহের পরে তিনি শীলা দীক্ষিত হন। তাঁর শ্বশুর প্রাক্তন স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল উমাশংকর দীক্ষিত৷

১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে তিনি উত্তর প্রদেশের কানৌজ সংসদীয় এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সংসদ সদস্য হিসাবে তিনি লোকসভায় আনুমানিক কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। শীলা দীক্ষিত ভারতের স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তির জন্য বাস্তবায়ন কমিটি এবং জওহরলাল নেহ্‌রু শতবর্ষ স্মরণার্থে কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতিত্ব করেন।

তিনি পাঁচ বছর (১৯৮৪-১৯৮৪) নারীর স্থিতি সম্পর্কিত রাষ্ট্রসংঘ কমিশনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯৮৬-১৯৮৯ সালের সময়কালে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, প্রথমে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। উত্তর প্রদেশে, তিনি এবং তার ৮২ জন সহকর্মীকে ১৯৯০ সালের ২৩ আগস্ট রাজ্য সরকার কর্তৃক কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল, যখন তিনি নারীদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন।

তবে অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিতর্কহীন ছিল না৷ শীলা দীক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দিল্লিতে ঘটেছিল নির্ভয়ার গণধর্ষণের ঘটনা৷ আবার কমনওয়েলথ গেমস দুর্নীতির নাম জড়িয়েছিল তাঁর।