স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আর মাস দুয়েকের অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত ই আলিপুর চিড়িয়াখানায় দেখা মিলবে অ্যানাকোন্ডার। গত বছরেই এই বিরাট আকৃতির সাপের আসার কথা ছিল আলিপুর চিড়িয়াখানায়। বিভিন্ন কারণে তা আটকে ছিল। সেই পথ এবার খুলে গিয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে বা জুন মাসের প্রথমেই শহরের চিড়িয়াখানায় দেখা মিলবে সেই সাপের।

বিগত কয়েক বছরে নানা ধরনের পশু পাখি এনে চমক দিয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। সেই তালিকায় ছিল এই অ্যানাকোন্ডাও। মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক থেকে অ্যানাকোন্ডাগুলিকে আনার পরিকল্পনার জানিয়েছিল আলিপুর কর্তৃপক্ষ। তার জন্য আলাদা ঘর এবং বিশেষ কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, আর সেখানেই সমস্যা ছিল। টেন্ডার ডেকেও ঠিকমতো সাড়া না মেলায় তাদের ঘর তৈরিতে অনেকটা সময় চলে যায়।

আলিপুর চিরিয়াখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত বলেন , “আধুনিক মানের এনক্লোজার তৈরি করার জন্যই দেরী হচ্ছে। তবে রেপটাইল হাউসের ডান দিকের ফাঁকা জায়গায় অ্যানাকোন্ডার বাসগৃহ তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। তাই সাপ মে – জুন মাস নাগাদ চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসতে পারব বলে আশা রাখছি।”

চেন্নাইয়ের ‘দ্য ম্যাড্রাস ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক ট্রাস্ট অ্যান্ড সেন্টার ফর হার্পিটোলজি’র কর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, কংক্রিট, পাথর ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অ্যানাকোন্ডার থাকার ঘর। এখানে সূর্যের আলো খুব কম ঢুকবে এবং মাটি ঠান্ডা ও ভেজা থাকবে। ঘরটিতে অনেক গাছও লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনফুট গভীর এবং সাত ফুটের কাছাকাছি চওড়া জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। এই বিশেষ ঘর তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা। কৃত্রিম ওই জলাশয়ে মাছ ছেড়ে দেওয়া হবে। অ্যানাকোন্ডারা নিজেরাই ওই মাছ শিকার করে নেবে। মাছের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ছোট ইঁদুরও তাদের খাবার তালিকায় রাখা হবে।

আলিপুর চিড়িয়াখানায় চারটি অ্যানাকোন্ডা আসছে । এর পরিবর্তে দু’টি কেউটে ও দু’টি শাখামুঠি সাপ সেখানে পাঠানো হবে ।