স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: গঙ্গার পশ্চিমপারের শহর হাওড়া পুরসভার (৪৫ থেকে ৫০ নম্বর ওয়ার্ড) সংযোজিত এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। অবশেষে এই পানীয় জলের সমস্যা দূর করতে উদ্যোগী হল হাওড়া পুরসভা।

সোমবার সন্ধ্যায় হাওড়া পুরসভার তরফ থেকে ওই এলাকায় পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে এক প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন হাওড়ার মেয়র রথীন চক্রবর্তী।

এ বিষয়ে বরো চেয়ারম্যান সৈকত চৌধুরী বলেন, হাওড়া পুরনিগম ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে যখন শপথ গ্রহণ করে সে সময় হাওড়ার মানুষ চূড়ান্ত জল কষ্টের মধ্যে ছিল। আমরা এসে দেখতে পাই পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পে যেখানে ৬০ মিলিয়ন গ্যালন জল উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে তার মধ্যে মাত্র ৩৪ মিলিয়ন গ্যালন জল সেসময় উৎপাদিত হত। হাওড়া জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ জলকষ্টের সমস্যায় ভুগত হতো।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় মহানাগরিককে তখনই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে প্রথমেই যেটা করতে হবে হাওড়ার মানুষের জলকষ্ট দূর করতে হবে। সাথে সাথে মাননীয় মহানাগরিক শপথ গ্রহণের পর এখানেই প্রথম এসেছিলেন। এসে দেখে গিয়েছিলেন কিভাবে এই প্লান্টটাকে আরও উন্নত করা যায়। এবং জলের প্রোডাকশনটাকে আরও অনেক বেশি নিয়ে যাওয়া যায়। সেই চেষ্টা তিনি শুরু করে দেন।

সে সময় পদ্মপুকুরের মান্ধাতার পরিকাঠামো বদলে করে উনি এখানে আধুনিকতার উপর জোর দেন। যেটা ৩৪ মিলিয়ন গ্যালন জল উৎপাদিত হতো বর্তমানে সেই জল উৎপাদনের ক্ষমতা চলে গেল ৫৮ মিলিয়ন গ্যালনে।হাওড়ার সমস্ত মানুষকে জলকষ্ট থেকে মুক্ত করলেন। তবুও যেটা তখন আমরা করতে পারিনি সেটা হল অ্যাডেড এরিয়া যেগুলো রয়েছে অর্থাৎ ৪৫ নং ওয়ার্ড থেকে ৫০ নং ওয়ার্ডগুলোতে ঠিক সেইভাবে তখনও জলের সাপ্লাই ঠিকমত করা যায়নি।

যদিও সেখানে বেশ কিছু জায়গায় জলের লাইন করা ছিল এবং ওভারহেড ট্যাঙ্কও ছিল। বর্তমানে যেটা আমরা উদ্বোধন করা হল অর্থাৎ যে জল দেওয়া হচ্ছে এতে টোটাল তিনটি ইউজার(আন্ডার গ্রাউন্ড রিজার্ভার) আছে। এই জল সরবরাহ হলে প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ এতে উপকৃত হবে। জল ওখানে পাঠানোর জন্যে সব মিলিয়ে প্রায় ১১০ কিলোমিটার পাইপ লাইন পাতা রয়েছে। সেগুলোতে আমরা জল সরবরাহ করতে পারব।

এদিন মেয়র ডাঃ রথীন চক্রবর্তী বলেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী জরুরী পরিষেবাকে সর্বাগ্রে নজর দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আমরাও সেই চেষ্টা করে এসেছি। এখানে দীর্ঘদিনের মানুষের জলের একটা সমস্যা ছিল। অ্যাডেড এরিয়ার মানুষ জলকষ্টে ভুগতেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই সমস্যা ছিল। অবশেষে আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেই সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করেছি। অ্যাডেড এরিয়াতে সেই জল পৌঁছে যাবে। এতে মানুষ উপকৃত হবেন। সেখানে দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটলে সেখানকার মানুষ আমাদের আশীর্বাদ করবেন। আমরা আশা করব আগামী দিনে আমাদের যে কাজ বাকি রয়েছে এখানকার প্রযুক্তিবিদরা সেই কাজ চালিয়ে যাবেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে মেয়র ছাড়াও হাওড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অরবিন্দ গুহ, ডেপুটি মেয়র মিনতি অধিকারী, পুরসভার কমিশনার বিজিন কৃষ্ণা, বরো চেয়ারম্যান সৈকত চৌধুরী, গৌতম দত্ত, মেয়র পারিষদ বিভাস হাজরা সহ অন্যান্য কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।