নিবেদিতা দে, কলকাতা: বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন শুরু ১১ এপ্রিল৷ কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে হবে ভোট গ্রহণ৷ কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী ও আলিপুরদুয়ারের দশরথ তিরকের সমর্থনে প্রচার করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

জেলা নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই লক্ষেই আগামী ৪ এপ্রিল কোচবিহার যাচ্ছেন মমতা৷ সেখানে প্রথম দফায় দুটি জনসভাটি করবেন তিনি৷ একটি কোচবিহারের রাজসভার মাঠে৷ পরের জনসভা ঠিক হয়েছে মাথাভাঙায়৷ দ্বিতায় দফায়, আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট ও কালচিনির মাঝামাঝি আরেকটি জনসভা হওয়ার কথা রয়েছে৷প্রথমে ঠিক হয় সোমবার ২৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী যাবেন কোচবিহারে৷ সেখানে দুটি জনসভা করার কথা ছিল তাঁর৷ তেমনটাই প্রথমে জানিয়েছেলিন জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ৷ কিন্তু পরে সেই তারিখ পিছিয়ে ৪ এপ্রিল করা হয়৷

শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচার হওয়ার কথা ছিল হলিকপ্টারে৷ কিন্তু কপ্টার পেতে সমস্যায় পড়তে হয় দলকে৷ কারণ একটি সংস্থা অগ্রিম নিয়েও সেই অর্থ পরে ফিরিয়ে দেয়৷ অবশেষে কপ্টার পরিষেবা মিলেছে৷ আর তাতেই প্রচারে বেড়োবেন নেত্রী তেমনটাই ঠিক হয়েছে৷ তাই এই বলম্ব৷

মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি কোচবিহারের প্রার্থীর সমর্থনে সেখানে প্রচার করতে এপ্রিলের শুরুতেই যাচ্ছেন যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আগামী ২রা এপ্রিল কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ও দিনহাটায় সভা করার কথা রয়েছে তাঁর৷ প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরই অভিষেক পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চালিয়েছেন৷ তৃণমূলকে মানুষ কেন ভোট দেবেন বুঝিয়ে এসেছেন তার সারমর্মও৷ সঙ্গে নানা ইস্যুতে লাগাতার বিজেপিকে দুষতেও ছাড়েননি তিনি৷

ইতিমধ্যেই জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূল প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারীর সমর্থনে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার কর্মসূচি চালিয়েছেন৷ করেছেন কর্মিসভাও৷ শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখনও৷ একপ্রকার প্রচারে কোনও রকম খামতি রাখতে নারাজ জেলা নেতৃত্ব৷ পাশাপাশি পরেশবাবুও জানিয়েছেন, ‘প্রচার জোরকদমে শুরু হয়েছে৷ রবিবাবু ও বিদায়ী সাংসদ পার্থপ্রতীমকে পাশে পেয়েছি৷ কোচবিহারের সাতটি বিধানসভা এলাকাতেই ঘুরে দেখতে হবে, জনসংযোগ করতে হবে৷’

ফাইল ছবি

তবে পরেশবাবু এও ব্যক্ত করেছেন, ‘জেলা নেতৃত্ব ত প্রচার চালাচ্ছেই৷ কিন্তু নেত্রী নিজে এসে আমার হয়ে প্রচার করলে একটা আলাদা শক্তি পাবো৷’ তবে মমতা শুধু কোচবিহারই নয়, সীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে খবর, বাংলার ৪২ আসনের জন্য মোট ৬৫টি জনসভা করবেন তিনি৷ কোচবিহার দিয়েই শুরু হবে সেই জনসভা৷ মমতা প্রত্যেকটি ভোটের আগেই জেলায় জেলায় গিয়ে জনসংযোগ করেন৷ তিনি যে তাদের পাশেই আচেন সেটাও বুঝিয়ে আসেন৷

তবে এবারে বিরোধী বিজেপি শিবিরের চাপে খানিকটা হলেও যে চিন্তার মেঘ রয়েছে তৃণমূল শিবিরে তা স্বীকার করেছেন অনেক তৃণমূল নেতাই৷ লোকসভা ভোটের আগে যেভাবে দলত্যাগী হয়েছেন একের পর এক তৃণমূল নেতা, তাতে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা বেড়েছে দলের৷ অনেক তৃণমূল নেতার কথায়, ‘সবজয়গায় নেত্রীকেই হাল ধরতে হবে, নইলে বিপদ আছে৷’ তাদের কথায়, নেত্রী না গিয়ে মাইক না ফুকলে নাকি জেতা কঠিন হয়ে যাবে তৃণমূলের৷ কারণ মানুষ মমতাকে দেখেই তৃণমূলকে ভোট দেয়, সেখানে কে প্রার্থী সেটা বড় বিষয় নয়৷