হাওড়াঃ  “অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে কোথায়? ভোটের নামে লুটতরাজ হচ্ছে। বাইরে থেকে লোক আসছে। গুন্ডামি বদমায়েশি হচ্ছে। কমিশন যদি উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে না পারে তাহলে মানুষ ভোট দেবে কিভাবে? আমরা আশা করব আগামীকাল অর্থাৎ রবিবার শেষ দফার ভোট যেন শান্তিপূর্ণ হয় এবং নির্বাচন কমিশন যেন সেই ব্যবস্থা করতে পারে।” শনিবার দুপুরে হাওড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমনটাই বলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য।

এদিন তিনি বলেন, “জানি না আগামীকাল সপ্তম দফার ভোটে কি হবে। আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেবে যাতে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হচ্ছে কোথায় ? এই শব্দ শুধু ইংরেজি গ্রামার বইতেই পাওয়া যায়। ভোটের নামে লুটতরাজ হচ্ছে। বাইরে থেকে লোক আসছে। গুন্ডামি হচ্ছে। বদমায়েশি হচ্ছে। বাইরে থেকে পুলিশ ফোর্স আনা হয়েছে। তারা করছেটা কি। তাই কমিশন যদি নিজে উদ্যোগী ভূমিকা পালন না করে তাহলে রাজ্যের মানুষ ভোট দেবে কি করে ? ভোট তো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে যত দিন যাচ্ছে।

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রবীণ এই নেতা। তাঁর মতে, বিদ্যাসাগরের মূর্তি বহিরাগতরা না কারা ভেঙেছে বোঝা যাচ্ছে না। কলকাতা পুলিশের অবস্থাটা একবার বুঝুন। আমি কলকাতার সিপি-কে যখন ফোন করে বললাম যে আপনারা বুঝতে পারছেন না যে মূর্তি কারা ভাঙল ? কিসের জন্য আপনাদের বুঝতে এত অসুবিধা। আসলে আপনারা কোনও কেয়ারই করছেন না। একমিনিটেই বোঝা যায় কারা মূর্তিটা ভেঙেছিল। এবং তাদের গ্রেফতার করা যায়। পুলিশ তা করতে পারছে না ওপরের চাপ রয়েছে বলে।”

গরমে ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বুথগুলির কাছে খাবার জলের ব্যবস্থা করতে পারে না। ছাউনির ব্যবস্থা করতে পারেনা। এতবার আমরা দাবি করে এসেছি। নির্বাচনের জন্য হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। আর তারা একটু খাবার জল আর ছাউনির ব্যবস্থা করতে পারেনা ? এটা একটা নখদন্ত বিহীন কমিশন ভারতবর্ষে তৈরি হয়েছে। এরকম অপদার্থ কমিশন আমি আমার জীবনে দেখিনি। প্রচারের সময়সীমা একদিন আগে কমিয়ে দিয়ে কমিশন খুব অন্যায় করেছে। সব পলিটিক্যাল পার্টির সঙ্গে এটা আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল। আমরা পরশু দিন কমিশনে গিয়ে এটার প্রতিবাদ করেছি।