নয়াদিল্লি: সোমবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লোকসভার প্রথম এবং একমাত্র বাঙালি স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তাঁর প্রয়াণে স্মৃতিচারণায় কান্নায় ভেঙে পড়েন লোকসভার বর্তমান স্পিকার সুমিত্রা মহাজন৷

তিনি জানান, তাঁদের মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর কাছে বড় দাদার মতোই ছিলেন৷ তাঁদের মতাদর্শ পৃথক হলেও ১৯৮৯সালে যখন সুমিত্রা মহাজন লোকসভায় পা রেখেছিলেন তখন থেকেই সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে কাছ থেকে কাজ করতে দেখেছেন৷

পড়ুন: সোমনাথ দা’কে হারিয়েই প্রথম সাংসদ হয়েছিলেন মমতা

তিনি আরও জানান, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর কাছে পথপ্রদর্শকের মতো ছিলেন৷ তাঁর মতে, সংসদ ভবন যে সবার ওপরে তা প্রয়াত অধ্যক্ষই তুলে ধরেন৷ নিয়ম মেনে একজন স্পিকার কিভাবে কাজ করবে তা তিনিই যেন বেশি করে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তাঁর কাজের মাধ্যমে৷ সুমিত্রা মহাজন চিৎকার করে উঠলে তা তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যে মানানসই হয় না তা যেন এক বড় দাদার মতো গাইড করেই বুঝিয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়৷ সোমবার তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় আসছেন সুমিত্রা মহাজন৷

শেষ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছিলেন। গত দেড় মাস ধরে একাধিকবার হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল তাঁকে। বার্ধক্যজনিত কারণেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা।

পড়ুন: দাহ নয় দেহদান হবে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের

আরও জানানো হয়েছিল যে ধীরে ধীরে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন সিপিএমের প্রাক্তন এই সাংসদ৷ গত এক সপ্তাহেরও ধরে হাসপাতালে ভরতি তিনি৷ তবে শুক্রবার বিকেল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর৷ গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড৷ ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন তাঁর একবার হার্ট অ্যাটাক হয়।

এদিন প্রধানমন্ত্রী ট্যুইট করেন, “প্রাক্তন সাংসদ এবং অধক্ষ্য শ্রী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ভারতীয় রাজনীতির একজন অদমনীয় ব্যক্তি ছিলেন৷ উনি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রকে এক অন্য স্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন৷ দরিদ্র এবং দুর্বলদের জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য৷ তাঁর মৃত্যু আমার কাছে যথেষ্ট বেদনাদায়ক৷ ওনার পরিবার এবং সমর্থকদের পাশে রয়েছি৷”