নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কপ্টারে তল্লাশি চালানোয় মহম্মদ মহসিন নামে এক আইএএস অফিসারকে বরখাস্ত করে নির্বাচন কমিশন৷ যেহেতু স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের অধীনে থাকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সেহেতু এই তল্লাশি চালানোর এক্তিয়ার ওই আইএএস অফিসারের ছিল না বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল । কিন্তু ওই আমলা তল্লাশি চালিয়ে আদৌ কোনও নিয়মভঙ্গ করেছিলেন তা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠছে ৷

ওড়িশার সম্বলপুর কেন্দ্রের বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ছিলেন এই মহম্মদ মহসিন। তিনি সেখানেই নরেন্দ্র মোদীর কপ্টারে তল্লাশি চালানোয় ওই কপ্টার ছাড়তে ১৫ মিনিট দেরি হয়। এর পরে দেখা যায় কর্তব্য পালন না করার অপরাধে তাঁকে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। স্বভাবতই তখন জানতে চাওয়া হয় – এই অফিসার কোন নিয়ম ভেঙেছে ৷ এদিকে জবাবে কমিশন জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিলে দেওয়া একটি নির্দেশে বলা হয়েছিল যাঁরা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের অধীনে থাকেন, তাঁদের কোনও তল্লাশি করা যাবে না।

কিন্তু ২০১৪ সালে করা ওই নিয়মে এমন কোনও নির্দেশ মেলেনি বরং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তল্লাশি চালানোর কথাই বলেছে নির্দেশিকায়। যাতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রচারের সময় অথবা নির্বাচনের ব্যাপারে যাতায়াতে কোনও ভাবেই সরকারি গাড়ির ব্যবহার করা যাবে না। তবে যাঁরা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের নিরাপত্তা পান, তাঁদের ক্ষেত্রে অবশ্য নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁরা এই বিশেষ নিরাপত্তা পান সন্ত্রাসবাদী হামলার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, তাঁরা এই নির্দেশের আওতায় পড়বেন না।

তবে পাশাপাশি জানান হয়েছে, স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা অন্যান্য নিরাপত্তা যাঁরা পান, তাঁরা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তির স্বার্থে বাড়াবাড়ি রকমের কাজ করলে কমিশন বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট সরকারকে জানাবে এবং তার ভিত্তিতে জরুরি ব্যবস্থা নেবে সরকার।

অর্থাৎ যে নিয়মের প্রেক্ষিতে মহসিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে, সেই নিয়মই বলছে — স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের নিরাপত্তা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।সেক্ষেত্রে মোদীর কপ্টারে তল্লাশি চালিয়ে তিনি আদৌ কোনও নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেননি। এদিকে তল্লাশির ইস্যুতে বরখাস্তের কথা জানাজানি হতেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস টুইট করেছে – মোদী হেলিকপ্টারে কী নিয়ে যান সেটা দেশবাসীকে তিনি দেখাতে চান না। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর কপ্টারে তল্লাশি চালানো যাবে না, এমন কোনও নিয়ম কোথাও নেই।

প্রসঙ্গত, এর আগে কর্নাটকের চিত্রদুর্গে মোদীর কপ্টার থেকে একটি কালো ট্রাঙ্ক নামানোর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে৷ যাতে দেখা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার থেকে একটি কালো ট্রাঙ্ক নামিয়ে নিরাপত্তা রক্ষীরা একটি ইনোভা গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন এবং সে গাড়িটিও সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনেও এই বিষয়ে কংগ্রেস অভিযোগ জানিয়েছে। তবে সেই কালো ট্রাঙ্কের কী দশা তা এখনও জানা যায়নি।