নয়াদিল্লি: রমজান মাসে ভোট৷ এই নিয়েই বেঁধেছে বিতর্ক৷ লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে৷ অনেকেই প্রশ্ন করছেন, কেন রমজান মাসেই ভোট পড়ল? বিশেষত মুসলিম নেতারা সরব হয়েছেন এই ইস্যু নিয়ে৷

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ আম আদমি পার্টি নেতা আমানুতুল্লাহ খানের দাবি কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মুসলিম ভোটারদের ভাবাবেগকে আহত করেছে৷ রমজান মাসে সারাদিন রোজা রেখে ভোট দেওয়া বা ভোটের কাজ করা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য কষ্টকর৷ সেটা মাথায় রাখেনি কমিশন৷ অবিবেচকের মত রমজান মাসে ভোটের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন এই নেতা৷

আরও পড়ুন : ‘লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে বালাকোটে করা হয়েছে এয়ারস্ট্রাইক’

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনী তারিখ বিজেপির সুবিধা দেখে ঠিক করা হয়েছে৷ কারণ রোজা রেখে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না অনেক মুসলিমই৷ মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী কাজের জন্য ইন্ধন যুগিয়েছে বিজেপি৷ মুসলিমরা ভোট দিতে না পারলে বিজেপির সুবিধা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি৷

আমানুতুল্লাহ খানের মত একই সুরে কথা বলেছেন মৌলনা কালিদ রশিদ ফিরঙ্গি মাহলিও৷ তিনি বলেন নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বদল করা উচিত৷ রমজান মাসে নির্বাচনের শেষ তিন দফার তারিখ পড়েছে৷ সেই তারিখ বদল করা উচিত বলে দাবি করেন তিনি৷

তাঁর মতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ৬ই মে থেকে রোজা শুরু করবেন৷ তাহলে রোদে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ভোট দেবেন কী করে৷ নির্বাচন কমিশনের এই বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত ছিল৷

আরও পড়ুন : জম্মু কাশ্মীরের ভোটের জন্য তিন বিশেষ পর্যবেক্ষক

একই কথা বলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও৷ রমজান মাসের মধ্যে ভোটের দিনগুলি বিবেচনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি৷ রবিবার ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার পরই তিনি একটি প্রেস বিবৃতি দেন।

রমজানের সময় ভোট না করানোর আরজি জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমও৷ তাঁর মতে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মানুষদের জন্য সাত দফায় ভোট নি:সন্দেহে কষ্টকর৷ বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা বেশি সমস্যায় পড়বেন৷

রবিবার বিকেলে নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। তিনি জানান, গোটা দেশে মোট সাত দফায় ভোট গ্রহণ হবে লোকসভা নির্বাচনে। বাংলাতেও ওই সাত দফাতেই ভোট গ্রহণ করবে কমিশন।