লখনউ: কোনও রকমে প্রার্থী হতে পেরেছেন৷ কেন্দ্র বদল করে এবার মায়ের জেতা কেন্দ্র পিলভিটে দাঁড়িয়েছেন বরুণ গান্ধী৷ তবে বিতর্কিত মন্তব্য থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি৷ এদিনও জনসভায় দাঁড়িয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বরুণ৷

এদিন তিনি বলেন মুসলিম ভোটাররা ভোট না দিলেও কিছু যায় আসে না তাঁর৷ এই সম্প্রদায়ের বোঝা উচিত বিজেপি সবসময় মুসলিমদের পাশে রয়েছে৷ তাদের জন্য কাজ করছে৷ সেটা ভোটের আগেও করে, ভোটের পরেও করে৷ তাই বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা জরুরি৷

আরও পড়ুন : মোদীকে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ বলায় ক্ষমা চাইলেন রাহুল গান্ধী

তবে মুসলিমদের ভোট দরকার নেই বলে অজান্তেই বিতর্কে জড়িয়ে গিয়েছেন মানেকা পুত্র৷ রবিবার সুলতানপুরের বিজেপি প্রার্থী বরুণ গান্ধী বলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের চিন্তা করার কোনও কারণ নেই৷ তাঁরা যদি আমায় ভোট দেন, তবে ভাল৷ নাহলেও কোনও সমস্যা নেই৷ আমি সবার জন্যই কাজ করব৷

তবে এখানেই তুলনা উঠে এসেছে তাঁর মা মানেকা গান্ধীর আরেক বিতর্কিত বক্তব্যের সঙ্গে৷ মানেকা বলেছিলেন ভোটে প্রাপ্ত ভোটের শতাংশের বিচারে কাজ হবে৷ যে অঞ্চল থেকে যত বেশি ভোট পাব সেই অঞ্চলে সবার আগে ভালো কাজ হবে৷

এর আগে প্রচারে সংখ্যালঘুদের ভোট দেওয়া নিয়ে হুমকি দেন তিনি৷ সুলতানপুরের বিজেপি প্রার্থী এবার মানেকা গান্ধী৷ সেখানেই আপাতত প্রচারে ব্যস্ত তিনি৷ নিজের কেন্দ্রে এক সভায় মানেকা গান্ধী বলেন, ‘‘যে গ্রাম বা অঞ্চল থেকে যত বেশি ভোট পাব সেখানে তত বেশি কাজ হবে৷’’ এখানেই শেষ নয়৷ কাজের সুবিধায় ভোটারদের গ্রেডও নির্ধারণ করেন৷ জানান, যে আঞ্চল বা গ্রাম থেকে বিজেপি ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পাবে তারা সবার আগে সুযোগ সুবিধা পাবেন ও কাজ হবে৷ এইসব অঞ্চলকে ‘এ’ গ্রেড বলে চিহ্নিত করেন মানেকা৷

আরও পড়ুন : বিজেপির মনোজ তিওয়ারির বিপরীতে লড়বেন শীলা দীক্ষিত

৬০ শতাংশের বেশি ভোট পেলে তা ‘বি’ ক্যাটাগরিতে পড়বে৷ পর্যায়ক্রমে ৫০ ও ৩০ শতাংশ ভোট যে সব এলাকা থেকে পাবেন মানেকা তা ‘সি’ ও ‘ডি’ গ্রেডভুক্ত বলে ধরা হয়েছে৷ শেষ দুই গ্রেড এলাকার কাজ প্রথম দুই ধাপের তুলনায় পরে হবে বলে সভাতেই স্পষ্ট করে দেন সুলতানপুরের গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী মানেকা৷

বিজেপিতে বরুণ যোগ দেন ২০০৪ সালে৷ দীর্ঘদিন উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের সাংসদ ছিলেন তিনি। অন্যদিকে মা মানেকা ছিলেন পিলিভিটের সাংসদ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দু’‌জনের কেন্দ্র বদল হয়েছে। মানেকা ছেলের লোকসভা কেন্দ্র সুলতানপুর থেকে লড়ছেন৷ এদিকে, ছেলে বরুণ দাঁড়িয়েছেন মায়ের লোকসভা কেন্দ্র পিলিভিটে৷ সূত্রের খবর পাঁচ বছরে সুলতানপুরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন বরুণ। তা–‌ই নাকি ছেলের জন্য নিরাপদ সুলতানপুর ছেড়ে দিয়েছেন মানেকা।

বরুণের প্রার্থী হওয়া এবার অনিশ্চিত ছিল। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে সিবিআই আধিকারিকদের সঙ্গে সংঘাত, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যে বেশ অস্বস্তিতেই পড়ে দল৷ এরপর থেকে বিজেপিতে আরও কোণঠাসা হন। দল তাঁকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়নি। ওই সময়েই জোর গুজব রটেছিল যে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন বরুণ। তবে সেই জল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি৷