নয়াদিল্লি: সংবিধান সংশোধনী (১২৪তম সংশোধনী) বিল ২০১৯ পাশ হল লোকসভায়৷ এই বিলে উচ্চবর্ণের আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ ধার্য করা হয়েছে৷ মঙ্গলবার লোকসভায় এই বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাওয়ারচন্দ গেহলট।

বিভিন্ন চাকরি ও উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই সংশোধনীর সাহায্যে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া ব্যক্তি ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন৷ এদিন ৫৪৩ আসনের লোকসভায় বিল সংশোধনীর পক্ষে পড়ে ৩২৩টি ভোট৷ বিপক্ষে যায় ৩টি ভোট। এবার এই বিলকে রাজ্যসভায় পাঠান হবে৷ সেখানে বিলটি পাশ হয়ে গেলে রাজ্যগুলির সবুজ সংকেত দরকার হবে৷ অর্ধেকের বেশি রাজ্য এই বিলে সহমত হলে তারপরেই তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে৷

এর আগে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিলটিতে ছাড়পত্র দেয়৷ শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বিল লোকসভায় পেশ হয়৷ সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারা সংশোধন করা হল এই বিলের মাধ্যমে৷ এই প্রথম জাতপাত নয়, আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়াদের জন্য সংরক্ষণ বিল আনা হল৷ এদিন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে তর্ক বিতর্ক ও আলোচনা চলে সংসদে৷ তবে বিল পাশ হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন স্পীকার সুমিত্রা মহাজন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ বিলটির স্বপক্ষে সুর চড়িয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও৷

জাতপাতের রাজনীতি ভুলে ভারত এক নতুন দিশায় হাঁটছে বলে মন্তব্য করেন স্পীকার৷ এই বিল আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষের সহায়ক হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি৷ এরই সঙ্গে বিলের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রীও৷ তিনি বলেন দেশের ইতিহাসে এই বিল যুগান্ত তৈরি করল৷ সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষ যাতে সমান সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করবে এই বিল৷

বিল নিয়ে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও৷ রাজনাথ এদিন বলেন বিলটি ঐতিহাসিক৷ সব স্তরের মানুষকে নিয়ে পথ চলার সুযোগ দেবে সংবিধান সংশোধনী বিল৷

বিলটি নিয়ে আলোচনা চলার সময়ে লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীও।

তবে এই বিলের বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস৷ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মহিলা সংরক্ষণ বিলকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে না কেন্দ্র৷ এর পিছনে রাজনীতি রয়েছে৷ এই বিল দেশের যুব সম্প্রদায়ের সামনে উপার্জনের রাস্তা খুলে দেবে না৷ বিভ্রান্ত করার জন্যই এই নতুন সংশোধনী বিল আনা হয়েছে৷