তমলুকঃ এই পশ্চিমবঙ্গের লজ্জা ও ঘৃণার কথা হল রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। আর এইসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে পুরী ছুটছেন পুজো দিতে। উনি নাকি দিল্লির মঙ্গল চান। আর পশ্চিমবঙ্গের উনি মঙ্গল চান না, পশ্চিমবঙ্গ মনে হচ্ছে দেশের বাইরে। পশ্চিমবঙ্গকে উনি আলাদা করে দিয়েছেন। আর উনি ওখানে যাচ্ছেন দিল্লির হিংসা যাতে বন্ধ হয়। হলদিয়ায় মা ও মেয়েকে নিশংসভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনায় শুক্রবার বিজেপি কর্মীদের নিয়ে পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এমনভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

এদিনের ঘেরাও কর্মসূচিতে লকেট চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি নবারুণ নায়েক সহ অন্যান্যরা। লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসনকে ভালোভাবে বলছি প্রশাসন আমাদের জানাক কত তাড়াতাড়ি তারা ফাস্ট ট্রাক করবে। দোষীদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি চাই।”

হলদিয়া নিশংস ভাবে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় এদিন তিনি বলেন, “এই ধরনের টেররিস্ট কাজকর্ম আমরা পাকিস্থানে দেখি সিরিয়াতে দেখি। কিন্তু আজকে আমরা পশ্চিমবাংলার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। বালুরঘাট দেখেছি, ভাটপাড়া দেখেছি, জলপাইগুড়ি দেখেছি, বীরভূম দেখেছি, আজকে আমরা তমলুক দেখছি। একই ঘটনা কাউকে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাউকে মেরে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হচ্ছে আবার কাউকে গণধর্ষণ করে মেরে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গ আগে কখনও দেখেনি, চাঞ্চল্যকর দাবি বিজেপি সাংসদের।

বিজেপি নেত্রীর অভিযোগ, আজকে তোষণের শিকার হয়ে পশ্চিমবাংলায় আমাদের মত মহিলাদের এই ধরনের ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। আজকে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি এই নিয়ে একটা কথাও বলছেন না”।

তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পুরীতে পুজো দেওয়াকে কটাক্ষ করে বলেন, “আজকের দিল্লিতে হিংসা হয়েছে বলে উনি পুরীতে পুজো দিচ্ছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের একের পর এক গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে উনার কোন একটিও পুজো দেওয়া নেই, আর মোমবাতি মিছিল নেই।” পাশাপাশি তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে বলেন, “আজকে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে অধিকারী কোম্পানি এন্ড ব্রাদার্স যেভাবে পাওয়ার দেখাচ্ছে, তাতে মানুষকে ভয়ে মুখ খুলতে দিচ্ছে না। ২০২১ সালে বিজেপি আসছে। ওই অধিকারী এন্ড ব্রাদার্স কোথায় যাবে এখন কেউ জানে না। ওরা কি নাটক করছে তা এখন কেউ জানেনা। ওদের ফাঁদে আপনারা কেউ পা দেবেন না।”

মহিলাদের সতর্ক করে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখন সব মহিলাকে রাস্তায় নামার সময় হয়ে এসেছে। সেই জন্য আপনাদের সবাইকে বলছি আগামী দিনে প্রতিবাদের জন্য রাস্তায় মেয়েরা আগে নামবেন দরকার হলে মেয়েরা হাতে অস্ত্র তুলে নেবেন। প্রশাসন যখন কোনও রকম কাজ করছে না তাই মহিলারা নিজেদের সুরক্ষিত প্রতিরোধ করার জন্য মহিলাদেরকে আজকে অস্ত্র নিতে হবে”।

তিনি বুদ্ধিজীবীদের কটাক্ষ করে বলেন, “আমরা দেখে নিয়েছি বুদ্ধিজীবীরা কি করেন। সানগ্লাস পড়ে মোমবাতি নিয়ে মোমবাতি মিছিল করেন তৃণমূলের কেউ মারা গেলে। কাশ্মীরে, পাকিস্তানের, রাজস্থানে কেউ মারা গেলে দেখবেন বুদ্ধিজীবীরা হনহন করে হাঁটছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে কিন্তু উনারা জানেন না।” শুক্রবার এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচিতে প্রায় কয়েক হাজার বিজেপি কর্মী সমর্থক অংশ নেয়। এদিন ঘেরাও কর্মসূচি জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরের কাছে পৌঁছতেই তমলুক মহকুমা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে মিছিল আটকে দেওয়া হয়। এরপর ট্যাবলোর ওপর থেকেই বক্তব্য রাখেন লকেট চট্টোপাধ্যায়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.