স্টাফ রিপোর্টার, বোলপুর: শান্তিনিকেতনে পৌষমেলার মাঠে রাতের অন্ধকারে সেক্স র‍্যাকেট, নেশার ঠেক চলে বলে দাবি করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্ত্তী ও বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল।

তাঁদের সেই দাবি উড়িয়ে দিলেন মহিলা মোর্চার প্রাক্তন সভানেত্রী তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। মেলার মাঠ বিতর্কে অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগ নস্যাত্‍‌ করে দিয়েছেন লকেট।

বিজেপি সাংসদের মন্তব্য, “বিশ্বভারতী মানেই খোলা আকাশ, খোলা প্রাণের জায়গা। পৌষমেলার মাঠে সেক্স-র‍্যাকেট চলছে, এ কথা আমি বিশ্বাস করি না। মানিও না।” অগ্নিমিত্রার নাম না করেই তারকা সাংসদের সংযোজন, “কে বলেছে আমি জানি না। বিশ্বভারতী নিয়ে এই ধরনের কথা বললে আমার মন খারাপ লাগে।”

উল্লেখ্য, পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল ভাঙা নিয়ে গন্ডগোলের সময় হঠাৎ একদিন অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার তথা জনসংযোগ আধিকারিকের একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ্যে আসে।

বিশ্বভারতীর লেটার হেডে ছাপা বিবৃতিতে লেখা ছিল, বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতেই পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, পৌষ মেলার মাঠে বিপজ্জনক কাজকর্ম চলে। সেখান থেকে পাওয়া গিয়েছে মদের বোতল এবং ব্যবহার করা কন্ডোম। মাঠের একটি অংশ যৌনক্রিয়ার মৃগয়া ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, রাত আটটার সময় মাঠ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও গভীর রাত পর্যন্ত নেশার ঠেক চলে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনিও বলেছিলেন, “অরক্ষিত মেলার মাঠে রীতিমতো অসামাজিক কাজকর্ম চলে। দেহ ব্যবসা থেকে নেশাড়ুদের আড্ডা, সবই হয় এখানে। শাসকদল তৃণমূলের লোকেরাও এই মাঠ থেকে মোটা টাকা কামান।”

যদিও লকেটের মত এব্যাপারে একমত হননি বোলপুরে প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা। এবিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বভারতীর ছাত্র ছিলাম। এখানে সেক্স র‍্যাকেট চলে বলে আমার জানা নেই। ফলে কে কি বলল সেটা আমি দেখতে যাব না।

এখানে ছোট থেকে বড় হয়েছি। বিশ্বভারতী নিয়ে আমরা একসঙ্গে লড়ছি। তবে তার মানে এটা নয় যে বিশ্বভারতীর নামে ভুলভাল বলব। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেপুটেশন খারাপ করে দেব। আমরা যারা এখানে বড় হয়েছি তাদের কাছে বিশ্বভারতী একটা আবেগের নাম। আমি এখানে অন্তত কোনও দিন সেক্স র‍্যাকেট চলতে দেখিনি। ফলে কে কি বলেছেন সে দায়িত্ব তাঁর।”

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।