স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপির হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সামনেই তার ভাড়া নেওয়া বাড়িতে তাণ্ডব চালালো দুষ্কৃতীরা৷

নির্বাচনের কাজে লকেটকে দলের যেসব কর্মীরা সাহায্য করেছেন তাঁরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ মোটরবাইকে চেপে কিছু দুষ্কৃতি ব্যান্ডেলের ওই বাড়িতে ঢোকে৷ অশ্রাব্য গালাগাল এবং হুমকি দিতে দিতে তাঁরা একতলা এবং দো-তলায় ভাঙচুর চালান৷

ওই সময় বাড়িতে লকেট সহ আরও চার-পাঁচজন মহিলা উপস্থিত ছিলেন৷ দুষ্কৃতীদের হাত থেকে তাঁকে বাঁচাতে লকেটের সহযোগীরা অন্য অন্য একটি ঘরে তাঁকে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়৷

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে৷ প্রত্যক্ষদর্শীর কথা অনুযায়ী, দু-তিনটি মোটর বাইকে চেপে কিছু লোক বাড়ির সামনে নামে৷ উপরে উঠে এসে প্রথমে গালিগালাজ করতে থাকে৷ ওই সময় লকেট সহযোগীরা লকেটকে সরিয়ে নিয়ে যান৷

দুষ্কৃতিরা ভাঙচূর করতে থাকে৷ টিভি থেকে আসবাবপত্র, আলমারি থেকে চেয়ার – কোনও কিছুই দুষ্কৃতীদের রোষ থেকে নিস্তার পায়নি৷ দোতলার পর একতলাতেও ভাঙচূর করে দুষ্কৃতীরা৷ টানা ১০-১২ মিনিট তাণ্ডব চালানোর পর মোটর বাইকে চম্পদ দেয় দুষ্কৃতীরা৷

হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে লকেটের প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসে তৃণমূল কংগ্রেসের রত্না দে নাগ এবং সিপিএমের প্রদীপ সাহা৷ বিজেপির দাবি, লকেটের জনপ্রিয়তা দেখে ভয় পেয়েছে বিরোধীরা৷ ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটেছে৷ ‘‘ওরা যখন উপরে উঠে এলো তখন আমাদের ভয় লাগছিল৷ দিদিকে ওখান থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম৷ একটা ঘরে আটকে দিয়েছিলাম৷ কয়েকদিন ধরেই ওই যুবকরা মোটর বাইক নিয়ে বাড়ির সামনে আসছিল৷ কিছু জিজ্ঞাসা করতেই পালিয়ে যেত৷ আজতো উপরে উঠে এসেছে৷’’

ব্যান্ডেলের ওই বাড়িতে লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে থাকছেন লকেট৷ ওই বাড়িতে থেকেই তিনি ব্যান্ডেলে প্রচার চালান৷ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বাড়ির মালকিন মাধবী বিশ্বাস৷ লকেট রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী৷ তিনি ইতিমধ্যেই দলকে বিষয়টি জানিয়ছেন৷ চুঁচুড়া থানায় অভিযোগও করা হবে৷ জানানো হবে নির্বাচন কমিশনকেও৷ হুগলির জেলা শাসক তথা রিটার্নিং অফিসার জে পি মিনাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে৷ যা খবর, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নিরাপত্তারক্ষী দাবি করেছেন লকেট৷