কলকাতা: হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় ভোটচলাকালীন বুথের ভিতর ভুয়ো ভোটার ধরেছেন বলে অভিযোগ করেছেন৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন লকেট৷ গোলমালের খবর পেয়ে হুগলির ২৩২ নম্বর বুথে যান রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী৷ সেখানে এক ব্যক্তি বুথের ভিতর নির্দল প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে বসে ছিলেন বলে অভিযোগ৷ এজেন্ট হিসেবে তার পরিচয়পত্র কোথায়, প্রশ্ন করেন লকেট৷

ওই ব্যক্তি পরিচয়পত্র না দেখিয়ে বলেন তিনি নির্দল এজেন্ট নন, সাধারণ ভোটার এবং তৃণমূলের সমর্থক৷ লকেট নিরাপত্তাকর্মীদের বলেন সাধারণ ভোটার বুথের ভিতর দাঁড়িয়ে থাকে কী করে? ওই ব্যক্তিকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷

ওই ঘটনার পর লকেট বুথের বাইরে উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন, তৃণমূল ভুঁয়ো ভোটার পাঠিয়েছে৷ ওরা কী করবে মারবে? মেরে দেখাক৷ এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি৷ লকেট বলেন, ‘‘সকাল থেকে এতক্ষণ কী করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী আমি বুঝতে পারছি না৷’’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও জানাতে পারেন তিনি, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন লকেট৷ লকেট সাফ জানিয়েছেন, ‘‘আমি তো বলছি, কেন্দ্রীয় বাহিনী কী কাজ কর বুঝতে পারছি না …৷’’

এরপর ধনেখালির একটি বুথে যান লকেট৷ ওই বুথেও তৃণমূলের একাধিক এজেন্ট নির্দল প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে বুথে বসে ছিল বলে অভিযোগ ওঠে৷ লকেট চিৎকার করে ওই নির্দল এজেন্টদের বলতে থাকেন, ‘‘আপনাদের হাত জোর করে বলছি এই বুথ থেকে বেরিয়ে যান৷ বেরিয়ে যান …৷’’ এরপর লকেট বলেন, ‘‘এটাই তৃণমূলের ফন্দি৷ প্রতিটি বুথে একাধিক ভুঁয়ো এজেন্ট রয়েছে৷ ওরা বলছে, নির্দলের এজেন্ট৷ কিন্তু কোনও প্রার্থী নেই৷ আসবে ওরা তৃণমূলরে এজেন্ট৷ বুথে জাল ভোট দেওয়ার জন্য বসে রয়েছে৷’’

প্রসঙ্গত, হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রত্না দে নাগ এই কেন্দ্রের সাংসদ৷ সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে রয়েছেন প্রদীপ সাহা৷ কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন প্রতুল চন্দ্র সাহা৷ ইতিমধ্যেই লকেট ভোটের ময়দান জমিয়ে দিয়েছেন৷ কিছুদিন আগেই লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সামনেই তার ভাড়া নেওয়া বাড়িতে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতিরা৷ নির্বাচনের কাজে লকেটকে দলের যেসব কর্মীরা সাহায্য করেছেন তাঁরা তাকে সাহায্য করেন৷

লকেট পরে অভিযোগ করেছিলেন, মোটরবাইকে চেপে কিছু দুষ্কৃতি ব্যান্ডেলের ওই বাড়িতে ঢোকে৷ অশ্রাব্য গালাগাল এবং হুমকি দিতে দিতে তাঁরা একতলা এবং দো-তলায় ভাঙচূর চালান৷ ওই সময় বাড়িতে লকেট সহ আরও চার-পাঁচজন মহিলা উপস্থিত ছিলেন৷ দুষ্কৃতিদের হাত থেকে তাঁকে বাঁচাতে লকেটের সহযোগীরা অন্য অন্য একটি ঘরে তাঁকে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়৷