স্টাফ রিপোর্টার, চুঁচুড়া: তেলিনিপাড়ার সংঘর্ষে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি নেতৃত্ব। সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং-রা চন্দননগরের পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। সেদিন সন্ধেবেলায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল হয় ভদ্রেশ্বর থানার তেলিনিপাড়ায়। বুধবারও দফায় দফায় চলছে বোমাবাজি, গুলি। অব্যাহত ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশাল পুলিশ বাহিনী-কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে চন্দননগর কমিশনারেটের তরফে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অশান্তির ছবি-ভিডিও উসকানির কাজ করছে বলে হুগলির ১১টি থানা এলাকায় ইন্টারনেট ও কেবল পরিষেবা বন্ধ করেছে প্রশাসন। তাও অশান্তি থামছে না।

এদিন লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “পুলিশ কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলছেন, কোনও দল-রং না দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কোথায় কী? এখনও আগুন জ্বলছে। পুলিশ কী করছে? কমিশনার আমার সঙ্গে দেখা করছেন না। ভদ্রেশ্বর থানার ওসি কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। জেলাশাসক বলছেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আসতে হবে। আমি একজন সাংসদ। আমাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আসতে হবে মানুষের কথা বলার জন্য?”

তিনি বলেছেন, “আমাকে সর্বত্র আটকানো হচ্ছে। কিন্তু যেটা আটকানোর, সেই অশান্তি আটকাতে পারছে না পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ পুলিশ।”

মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, লকডাউন ভেঙে যারা অশান্তি করছেন তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। সে যেই হোক না কেন। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মহামারি আইনে ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এরপরই সাম্প্রদায়িক অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে একহাত নিয়ে মমতা বলেন, “আপনাদের লজ্জা লাগে না? এই মহামারির সময় হিন্দু-মুসলিম করছেন। বিধানসভা ভোট তো পরের বছর। এখনই দাঙ্গা করছেন কেন? হিন্দু-মুসলিম না করে যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় কাজ করছে, তাঁদের পাশে দাঁড়ান। হিন্দু-মুসলিম করবেন না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা লকেট বলেন, “একটা সম্প্রদায়ের লোকজন ঘরে থাকবে না, কোয়ারেন্টাইনে যাবে না। তারা টেস্ট করবে না। চারিদিকে শুধু ছড়িয়ে যাবে করোনা। পুলিশকে কিছু বললেই সেই রাগটা এসে পড়ছে হিন্দুদের উপরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন এই একটা সম্প্রদায়কে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। ওঁদের জন্য ছাড়ের বন্দোবস্ত করে রেখেছে সরকার ও তার পুলিশ। তাই আজ এই অবস্থা বাংলার।”

বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব। উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং-কে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন তিনি।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV