লন্ডন: বিশেষজ্ঞ বা সমাজবিজ্ঞানের বিশ্লেষকদের পাশ কাটিয়ে আমলাদের নির্ভর করে লকডাউন কর্মসূচি যে তেমন ফলপ্রসু হয়নি ভারতে, সেই রিপোর্ট দিল বিবিসি.

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই সংবাদ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন- ” ভারতের মহামারী এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এক যৌথ বিবৃতিতে ভারত সরকারের কোভিড ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন”।

অভিযোগ, আমলাদের উপর নির্ভর করে লকডাউন ঠিক মতো প্রয়োগ করা হয়নি। সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, ভারতে কঠোরভাবে লকডাউন বলবৎ করা হচ্ছে। অথচ এরই মাঝে গত দুমাসেরও বেশি সময়ে মধ্যেও ৬০৬ জন করোনা সংক্রমিত রোগী থেকে সংখ্যাটা বেড়েছে প্রায় পৌণে দু লক্ষে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে বিভিন্ন দেশের মতো ভারতেও লকডাউন বা তালাবন্ধ কর্মসূচি চলছে। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে বেশকিছু নিয়ম শিথিল করেই পঞ্চম দফার লকডাউন শুরু হচ্ছে সোমবার। এই দফাকে ভারত সরকার আনলক-১ ঘোষণা করেছে।

রবিবার রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ধীরে ধীরে সবকিছু চালু হচ্ছে। এই সময় আরও সাবধান থাকতে হবে। মাস্ক পরা, ২ গজ দূরত্বের বিধি আরও সতর্ক ভাবে মেনে চলতে হবে।

এদিকে ভারতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতেই সর্বাধিক করোনা হামলা হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে, ভারতে যে লকডাউনের চারটি পর্যায় চালানো হলো, তার কার্যকরী কতটা ? বিবিসি প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের যুক্তি তুলে ধরা হয়। তাঁরা জানিয়েছেন, ভারত সরকারও মহামারী এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের চিকিৎসক এবং সমাজবিজ্ঞানীদের ওপরে ভরসা না করে চিকিৎসক এবং আমলাদের ওপরেই বেশি নির্ভর করেছে।

জনস্বাস্থ্য এবং মহামারী বিশেষজ্ঞদের তিনটি সর্বভারতীয় সংগঠনের ওই বিবৃতিতে বলা হয়- লকডাউন চালানোর জন্য আমলাদের উপর বেশি করে নির্ভরতা মানবিক সঙ্কট এবং রোগের বিস্তার- এই দুই ক্ষেত্রেই ভারতকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। জাতীয় স্তরে মাঝেমধ্যেই কৌশল এবং নীতি বদল করা হয়েছে,”।

এই বিবৃতিটিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদে আসীন এবং অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা।তেমনই রয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞান কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরাও।

তবে করোনাভাইরাস মোকাবিলার মতো পরিস্থিতি আগে আসেনি। সেটাও রোগ ছড়ানোর বড় কারণ বলেই জানিয়েছেন আরও কিছু বিশেষজ্ঞ।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব