তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অনেক টালবাহনা শেষে বুধবার অযোধ্যায় ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের মন্দিরের ভূমি পুজো হবে। তার রেশ এসে পড়লো লাল মাটির জেলা বাঁকুড়াতেও। মঙ্গলবার বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পথে নামেন।

নিজের হাতে সাদা কাগজের উপর ‘জয় শ্রীরাম’ লিখে বাঁকুড়া শহরের রানীগঞ্জ, রাসতলা, জুনবেদিয়া এলাকায় ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা, পথ চলতি মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছে ওই দিন ঠিক দুপুর সাড়ে ১২ টায় শাঁখ বাজানোর আবেদন জানান।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, ৫ তারিখ রাম মন্দিরের ভূমি পুজো হবে। এই খবরে সারা ভারত আনন্দে উদ্বেল। এই অবস্থাতে মানুষের আনন্দকে আঘাত করে ওই দিন রাজ্য সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছেন। অথচ ২ অগষ্ট লক ডাউন ঘোষণা করেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে রাজ্য সরকার ‘রামের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন’।

শ্রীরাম চন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কেউ জেতে না, এই রাজ্য সরকারও জিতবে না’ বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে এই বিষয়ে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা বলেন, পুজার্চণা যে কেউ করতে পারেন। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হবে। রাস্তায় ভিড় আর জটলা করা কাম্য নয়। বাংলার মানুষ সব বুঝে গেছেন। পাশে না থেকে ধর্মীয় উন্মাদনার মাধ্যমে মানুষকে আর বিভ্রান্ত ওরা করতে পারবেন না। ২০২১ সালেই প্রমাণ হবে তৃণমূল আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ মাঠে থাকবে না বলেও এদিন তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, বুধবার বাংলায় লকডাউন প্রত্যাহারের দাবি একাধিকবার জানানো হয়েছে বিজেপির তরফে। তবে রাজ্য সরকার গেরুয়া শিবিরের সেই দাবিতে আমল দেয়নি। তবে সরকার লকডাউন জারি রাখলেও তাতে তাঁদের কর্মসূচির বদল হবে না বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দেশের অন্য রাজ্যগুলির পাশাপাশি বাংলাতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে করোনা। প্রতিদিন আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নতুন করে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু।

এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে সপ্তাহে দু’দিন গোটা রাজ্য লকডাউন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগস্টের কোন কোন দিন রাজ্যে লকডাউন থাকবে, আগেই তা ঘোষণা করা হয়েছে।

সেই তালিকা অনুয়ায়ী বুধবার ৫ অগাস্ট রাজ্যে বলকডাউন থাকছে। তবে ৫ অগাস্ট অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর অনুষ্ঠান। সেই কারণেই বাংলাতেও এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করতে চায় বিজেপি।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা