নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাস মহামারী ভারতের আয়ের বৈষম্যকে বাড়িয়ে কুলেছে। সম্প্রতি অলাভজনক সংস্থা অক্সফাম একটি সমীক্ষার পর এই বিবৃতি দিয়েছে। দ্য ইনক্যুয়ালিটি ভাইরাস শিরোনামে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লকডাউন চলাকালীন দেশের কোটিপতিদের সম্পদ আনুমানিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর দেশের ৮৪ শতাংশ পরিবার বিভিন্ন ধরণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি ঘন্টায় ১.৭ লক্ষ মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ভারতের শীর্ষ ১০০ জন বিলিয়নেয়ারের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে “দেশে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য অত্যন্ত মারাত্মক। মহামারী চলাকালীন এক ঘণ্টার মধ্যে (রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ) আম্বানি যা আয় করেছিলেন তা আয় করতে একজন শ্রমিকের ১০ হাজার বছর সময় লাগবে। আর আম্বানি যা এক সেকেন্ডে আয় করেছিলেন তা তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগবে একজন শ্রমিকের।” প্রসঙ্গত আগস্টে আম্বানিকে বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

লকডাউনের সময় এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেছে দেশ। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পায়ে হেঁটেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। সেই দলে ছিলেন পুরুষ, মহিলা; এমনকী শিশুরাও। শত শত (সম্ভাবত হাজার হাজার) মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরে সরকার সংসদে বলেছিল যে এই মৃত্যুর কোনও তথ্য নেই। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী এনিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। কংগ্রেস সেপ্টেম্বরে টুইট করে, “গোটা বিশ্ব তাদের মরতে দেখেছিল। দুঃখের বিষয় হ’ল সরকার প্রাণহানির বিষয়ে চিন্তা করে না।”

গত বছরের গোড়ার দিকে, লকডাউন জারি হওয়ার পর সরকার প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার একটি অর্থনৈতিক ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটিকে তাঁর “আত্ম-নির্ভার ভারত (স্বনির্ভর ভারত)” দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। তবে অক্সফাম তার রিপোর্টে জানিয়েছে যে প্রতিরক্ষা খাতে এফডিআই বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতে মহাকাশ অনুসন্ধান চালানো এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি ২ লক্ষ কোটি টাকার একটু বেশি ছিল ও জিডিপির এক শতাংশ ছিল।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ভারতের ১১ কোটিপতি মহামারীর সময়ে সম্পদের বৃদ্ধির জন্য মাত্র এক শতাংশের উপর ট্যাক্স দিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী কোটিপতিদের সম্পদ ১৮ মার্চ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিস্ময়করভাবে ৩.৯ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন থেকে ৫০০ মিলিয়ন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।