স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ফের শুরু হল কড়া লকডাউন। মহকুমা এবং কমিশনারেট মিলিয়ে ৫ জায়গা চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন । সেগুলো হল, বারাকপুর,বনগাঁ,বসিরহাট, বারসাত এবং বিধাননগর । ১৪ দিনের লকডাউনের প্রস্তাব নবান্নে পাঠানো হয়েছে আপাতত। সেই প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে –

১. মুদিখানা, সবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ফল, ওষুধের দোকান ছাড়া সমস্ত দোকান ও বাজার বন্ধ থাকবে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান।

২. জরুরি কারণ ছাড়া অটো, টোটো, ভ্যান-রিকশ, বাস পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পণ্যবাহী গাড়ি চলতে পারে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের রাস্তায় বেরোতে গেলে থানা থেকে পাস নিতে হবে।

৩. অফিস ও কারখানা ২০ শতাংশ কর্মী নিয়ে চলতে পারে। টেলিকম, ব্যাঙ্ক, এটিএম, তথ্য ও প্রযুক্তি, ডাক, দমকল, অসামরিক প্রতিরক্ষা, জরুরি পরিষেবা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

৪. দমদম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ থাকবে। পণ্যাবাহী উড়ান চলবে।

৫. সমস্ত মল,রেস্টুরেন্ট-সহ সব বিনোদনে জায়গা বন্ধ করে দিতে হবে।

৬. ধর্মীয় স্থানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ।

৭. নির্মাণকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করলে নির্মাণকাজ চালানো যেতে পারে।

৮. যারা বাইরে যাবেন তাদের মাস্ক পরা এবং সোশ্যাল ডিসট্যান্স বাধ্যতামূলক।

সূত্রের খবর, হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা করা হবে না। দুদিন প্রচার করা হবে এবং সঙ্গে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ১৪ দিনের লকডাউনের প্রস্তাব থাকলেও ১০ দিন পর একটা রিভিউ করা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত তারপর নেওয়া হবে। উত্তর চব্বিশ পরগনার মত এই পরিস্থিতি হতে পারে কলকাতাতেও।

কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়ায় প্রতিদিন-ই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায় প্রতিদিনই কমপক্ষে ২০০ জন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ, মঙ্গলবার নবান্নে স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, জেলাজুড়ে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় সোমবার সন্ধ্যায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে মালদহে। বুধবার থেকে লকডাউন হবে দুটি ব্লক ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদহে। মূলত অতি প্রয়োজনীয় নিত্যসামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী দোকান ছাড়া সব-ই বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলাপ্রশাসন।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বেসরকারি যানবাহনও বন্ধ থাকবে। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের বাসগুলি গৌড়কন্যা টার্মিনাল থেকে ছাড়ার পর দুই শহরের যে কোনও একটিতে দাঁড়াবে। সাইকেল রিক্সা এবং ই-রিক্সাও বন্ধ থাকবে।তবে নির্দিষ্ট তিনটি জায়গায় বেশ কিছু রিক্সা রাখা হবে। যা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে। ইংরেজ বাজারে সবজির বাজার জেলা সদর দফতর বেলা ১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ