নয়াদিল্লি : দেশজুড়ে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়িয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ৷ দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ভেঙে দিচ্ছে অতীতের সব রেকর্ড। এই অবস্থায় সংক্রমণের চেন ভাঙতে শুধুমাত্র নাইট কার্ফু নয়, সোমবার ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই সাতদিন রাজধানী শহরকে সম্পূর্ণভাবে কারফিউ জারি রাখার কথা ঘোষণা করেছেন আপ সুপ্রিমো তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

সোমবার সকালে একটি প্রেস বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এদিকে সারাদেশের পাশাপাশি রাজধানী দিল্লিতেও দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ভেঙে ফেলছে অতীতের সব রেকর্ড। প্রতিদিনই হু-হু করে বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। দিল্লিতে দৈনিক করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন প্রায় ২৫,৪৬২ জন।

যারফলে ফের নতুন করে বিপর্যয় এড়াতে এবং করোনা সংক্রমণের চেন ভাঙতে নতুন করে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এর আগেও করোনা রুখতে দিল্লিতে নাইট কারফিউ , সাপ্তাহিক কারফিউ লাগু ছিল।

জানা গিয়েছে এই সপ্তাহব্যাপী কারফিউ চলাকালীন দিল্লিতে মিলবে না আপৎকালীন ছাড়া অন্য কোনও পরিষেবা।

১.এই একসপ্তাহ জুড়ে রাজধানীতে উপযুক্ত কারণ সঠিক পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে রাস্তায় বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হবে না।

২. জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যেমন, চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল স্টাফ, ল্যাব টেকনিশিয়ান, পুলিশ, দমকল বাহিনী, স্যানিটেশন বিভাগ, ডিফেন্স এবং মেডিকেল স্টোরগুলি খোলা থাকবে।

৩.সরকারি, বেসরকারি কর্মচারি, মিডিয়া পার্সন প্রত্যেককেই নিজেদের আইডেন্টিটি কার্ড দেখিয়ে পাব্লিক প্লেসে যাতায়াত করতে পারবেন।

৪. গর্ভবতী মহিলা এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের কাছে ডাক্তারের লেখা প্রেসক্রিপশন থাকা বাধ্যতামূলক।

৫. এছাড়াও কোভিড সেন্টার বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করোনার টিকা নিতে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদেরও উপযুক্ত প্রমাণ সহ রাস্তায় বেরোনোর ছাড়পত্র মিলবে।

৬.আন্তঃদেশীয় ভ্রমণের ছাড়পত্র মিলবে। এছাড়াও পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষকদেরও বাইরে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, দোকান, শপিংসেন্টার, মল, সাপ্তাহিক বাজার, রেস্তোঁরা বার, কোচিং এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জিম, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, সেলুন, বিউটি পার্লার, ওয়াটার পার্ক, পাবলিক পার্ক কারফিউ চলাকালীন বন্ধ থাকবে।

লকডাউন চলাকালীন সময়ে সমস্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, একাডেমিক, বিনোদন এবং ধর্মীয় উৎসবব বা সমাবেশ নিষিদ্ধ।

সর্বোচ্চ ৫০ জন অতিথি নিয়ে বিয়ের অনুমতি দেওয়া হবে। অতিথিদের চেক করার সময় বিয়ের কার্ড তৈরি করতে হবে এবং হোস্টদের বিশেষ পাস গ্রহণ করতে হবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলার অনুষ্ঠানগুলি দর্শকদের ছাড়াই খেলা শুরুর অনুমতি দেওয়া হবে।

এই সময়ে ধর্মীয় স্থানগুলি খোলার অনুমতি দেওয়া হবে তবে কোনও দর্শনার্থীদের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি মিলবে না।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ফের এক নয়া রেকর্ড গড়েছে রাজধানী দিল্লির সংক্রমণ। এই সময়ের মধ্যে দিল্লিতে নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ৪৬২। অবস্থা এমন যে, প্রতি ঘন্টায় সংক্রমিত হয়েছে এক হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে একদিকে যেমন ২৫ হাজার ৪৬২ জন মানুষ সংক্রামিত হয়েছে, তেমনই এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬১ জনের।কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে আবার আজকে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

অপরদিকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে অক্সিজেন ঘাটতির খবর আসছে। কেন্দ্র সরকার নয়টি নির্দিষ্ট শিল্প বাদ দিয়ে অন্যান্য সমস্ত শিল্পক্ষেত্রে অক্সিজেন সরবরাহ নিষিদ্ধ করেছে। ২২ শে এপ্রিল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এছাড়াও স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৭৮ জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার সংখ্যা অনেকটাই কম। যা চিন্তা বাড়াচ্ছে চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞদের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৩২৯ জন। গোটা দেশে শুরু হয়েছে টিকাকরণ কর্মসূচি। এখনও পর্যন্ত ১২ কোটি ৩৮ হাজার ৫২ লক্ষ ৫৬৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.