সবে মাত্র ৩ দিন। অপেক্ষার এখনও ১৮দিন। তারপরেও পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে তা এই মুহুর্তেই বলা সম্ভবত নয়। তবে দয়া করে এই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন। তাতেও যদি কিছুটা সুরাহা মেলে।

এই অবস্থায় একদিকে যেমন গভীর সমস্যায় পড়েছে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা দেশের একটা বড় অংশের গরীব মানুষ। তেমনই এই অবস্থায় ভবিষ্যৎ চিন্তা করে প্রত্যকেরই মাথায় ঘুরছে নানা ভাবনা। ফলে মারণ এই ব্যাধি ঠেকাতে গিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এদেশও পড়েছে এক অদ্ভুত জটিল সমস্যায়।

জানি ১৩০ কোটির দেশে এই কঠিন সমস্যা থেকে চট করে বেরিয়ে আসা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। তবে বিন্দু বিন্দুতে যেমন সিন্ধু হয়, তেমনই আমাদের সুস্থ চিন্তাভাবনা কাজকর্ম এই মানসিন উদ্বেগ-চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাএ অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরাই সমস্যায় পড়েননি। সমস্যায় রয়েছে বেসরকারি এবং সরকারের বিভিন্ন দফতরে চাকুরীরত কর্মচারীদেরও।

কারণ, দেশের এই অবস্থায় বেশিরভাগ কর্মীদেরই বাড়ি থেকে কাজ করতে হছে( ওয়ার্ক ফ্রম হোম)। ফলে বিষয়টি যতটা সোজা মনে হছে, ততটা কিন্তু সহজ নয়। কারণ, বাড়ি আর অফিসে বসে কাজের মধ্যো রয়েছে আসমান-জমিন পার্থক্য।
ফলে এমন অবস্থায় বেশীর ভাগ কর্মরত নারী এবং পুরুষ উভয়েই কিছুটা হলেও মানসিক উদ্বেগ, চাপ এবং অন্যান্য সমস্যায় ভোগেন। কারণ,এই সময় প্রতিদিনের বাঁধাধরা রুটিনে পড়েছে ছেদ। নেই অফিস যাওয়ার ব্যস্ততা। নেই মিটিং, আলোচনা চক্র,কলিগদের সঙে খোলামেলা আড্ডার আসর। ফলে দেশজুড়ে হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতিতে কার্যত বেশ অসহায় অবস্থা এই সব সেক্টরে কর্মরত মানুষদের।

কিন্তু, বাড়িতে বসে অফিসের চিন্তা করে মানসিক চাপে ভুগে আর নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। কারনটা আশা করি আপনি বেশ বুঝতে পারছেন। ফলে এই অবস্থায় বাকি ১৮ দিন কীভাবে নিজেকে চাপমুক্ত রাখবেন তার জন্য রইল বেশ কিছু টিপস। এগুলি মেনে চলুন, এবং মানসিক উদ্বেগ ঝেড়ে থাকুন তরতাজা ফ্রেস।

১.কথা বলুন সকলের সঙ্গে:– বিশিষ্ট মনোবিদ ড: পারুল আঢ্যলেখা জানাছেন, আপনি যখন রয়েছেন ওর্য়াক ফ্রম হোম মোডে, তখনই বাড়িতেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যোই সেরে ফেলুন অফিসের যাবতীয় কাজ। চলুন রুটিন মেনে। একটানা কাজ করতে কার ভালো লাগে? এই অবস্থায় মাঝেমধ্যে একটু বিশ্রাম নিন। যেটা অফিসে চায়ের আসরে হত। এছাড়াও কথা বলুন আপনার অফিস কলিগ এবং পরিচিত বন্ধুদের সঙে। অবশ্যই এক্ষেত্রে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ইন্টারনেট, ফোন কল, ভিডিও কল এবং সোশ্যাল সাইটে কথা বলার পরামর্শ দিছেন ডাক্তার, মনোবিদরা।

২. অযথা আতঙ্কিত হবেন না:– মনোবিদ ড: সমিরুদ্দিন খাত্রি জানাচ্ছেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। এছাড়াও যারা এই অবস্থায় বাড়ি থেকে দূরে রয়েছেন তারাও মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন। যেটা কোনও ভাবেই কাম্য নয়। কারন মানসিক উদ্বেগ চিন্তা আমাদের শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার অনেক কমিয়ে দেয়। যার ফলে আমরা এই সময়ে ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়তে পারি। এই অবস্থায় অফিসের,কাজের ফাঁকে নিজের মতো সময় পরিচালনা করুন। সৃজনশীল কাজেও মনোনিবেশ করতে পারেন। যা এতদিন অফিসের কাজের সম্ভব হয়ে উঠছিলো না। এখনই মোক্ষম সময়। সেরে ফেলুন জরুরি কাজ। অবশ্যই তা যেন ঘরের হয়।

৩. ঝেড়ে ফেলুন,অতিরিক্ত চিন্তা:– মনোবিদ শ্রেয়া ভার্মা বলছেন, অযথা অতিরিক্ত চিন্তা করবেন না। সময়ের সাথে সাথে সব পরিস্থিতি মানিয়ে যায়। ফলে এখন বাড়িতে বসে উলটো পালটা চিন্তা করে নিজের বিপদ আর বাড়াবেন না। অবসর সময়ে খবরের কাগজ, পছন্দের গল্পের বই পড়ুন। আঁকাঝোকা বা এই সময়ে ভালোমন্দ রান্না করে হেঁশেল ঘরের জন্য আপনার হাত আরও পাকা করে ফেলুন।

৪. দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলুন:– অফিসের দিনগুলিতে যে ভাবে সকাল থেকে রাত পর‍্যন্ত রুটিন মেনে চলতেন। লকডাউনের দিনগুলিতেও সেই একই নিয়মাবলী মেনে চলুন। কারণ, বর্তমানে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা বলা হছে। ফলে এই অবস্থায় রুটিন মেনে চলা নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষায় একান্ত জরুরি।

৫: শান্ত থাকুন, মাথা ঠান্ডা রাখুন:– টলমলে এই পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করুন। এই অবস্থায় মাথা গরম করে যে কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত আপনার জন্য হিতকারক নাও হতে পারে। ফলে দয়া করে সুস্থ স্বাভাবিক থাকুন এবং এই কয়দিন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে সুস্থ থাকুন এবং অপরকেও সুস্থ রাখুন।