জলপাইগুড়ি: লক ডাউন পিরিয়ডের পেমেন্ট নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সেকেন্ড ফোর্ট নাইটের পেমেন্ট পেলো না জলপাইগুড়ি ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের চা শ্রমিকরা। টানা লক ডাউন এর ফলে কর্মহীন তাদের প্রতি বাড়ির প্রচুর লোক। ঘরে মজুদ খাবারে টান পরেছে । বেতন না পেয়ে হতাশ প্রায় ৩০০০ চা শ্রমিক।

চা বাগানে এখন ফ্রাস্ট ফ্ল্যাশের মরশুম। বাগান গুলির চা গাছ থেকে উকি মারছে দুটি পাতা একটি কুড়ি। কিন্তু লক ডাউন চলায় এখন চা বাগান গুলিতে বন্ধ চা পাতা তোলা, চা তৈরী করা সহ অন্যান্য কাজ।

শনিবার ৪ এপ্রিল ছিল এই চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিক দের সেকেন্ড ফোর্ট নাইটের পেমেন্ট। এবং ৭ তারিখ অস্থায়ী শ্রমিক দের পেমেন্ট দেবার তারিখ।

চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার জীবন চন্দ্র পান্ডে জানান, মার্চ মাসের ২৪ তারিখ অবধি হিসাব প্রস্তুত করা আছে। ২৫ তারিখ থেকে লক ডাউন শুরু হওয়ার ঐ সময়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাই ঐ সময়ের হাজিরা দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে মালিক পক্ষর সুনির্দিষ্ট কোনো গাইড লাইন একদিকে যেমন আসেনি অপর দিকে অফিসে আসেনি বাবুরাও। ফলে হিসাব প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। শ্রমিক দের একাংশ চাইছে বাগান খোলা হোক।

কিন্তু চা বাগান ম্যানেজারের এই বক্তব্য মানতে চায়নি চা শ্রমিক সংগঠন গুলি। শ্রমিক সংগঠন ও চা বাগান কর্তৃপক্ষর যৌথ মিটিংএ সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আজ পেমেন্ট পেলোনা ১৪০০ স্থায়ী চা শ্রমিক। আগামী ৭ তারিখ একই অবস্থা হবে প্রায় ১৫০০ অস্থায়ী শ্রমিক দের।

চা শ্রমিক আনন্দ সাহা জানান, ঘরে খাবার কমে যাচ্ছে। আজ আমাদের ১৫ দিনের বেতন দেবার কথা ছিলো। বেতন না পেয়ে প্রচন্ড সমস্যায় পড়ে গেলাম। আমরা চাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক। নইলে না খেয়ে মরতে হবে।

ঘটনায় জাতীয় চা মজদুর কংগ্রেস নেতা হামিদুর মহম্মদ জানান আজ আমরা মিটিং এ বসেছিলাম। ম্যানেজমেন্ট লক ডাউন এর সময় কাজ বন্দ থাকায় তার পেমেন্ট দিতে চাচ্ছে না। এই সিদ্ধান্ত আমরা মানিনি। আমাদের দাবী ফুল পেমেন্ট দিতে হবে।

ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা এই চা বাগানের পাশাপাশি একই অবস্থা হবে অন্যান্য চা বাগান গুলিতেও। ফলে চা বাগান গুলিতে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দেবার সম্ভাবনা।