সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : হঠাৎ লকডাউনের দিনে ফের পরিবর্তন হল রাজ্যে। মানুষ ভেবে আকুল। কেন এমন বারবার লকডাউনের দিন পরিবর্তন? প্রশ্ন অনেকে করছেন উত্তর পাচ্ছিল না আম জনতা। ‘বাংলার দাবী’ লকডাউনের দিন পরিবর্তনে জয়ের উচ্ছ্বাস দিয়ে দিল উত্তর। লকডাউনের দিন পরিবর্তনের কারণ মা মনসার পুজো। তা নিয়ে কয়েকটি জেলা থেকে লকডাউনের দিন পরিবর্তনের দাবী উঠছিল। বাংলার দাবী সেই দাবী নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল। অবশেষে ফের দিন পরিবর্তন ও এমন জয়ে খুশি বাংলার দাবী নিএ তৈরি হওয়া এই সংগঠন।

সংগঠনের সদস্য দিপাঞ্জন বসু জানালেন, ‘১৭ তারিখ মনসা পুজোর দিন থেকে লকডাউন ওঠালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিপুল পরিমাণ জনগণের জন্য যে দাবী তুলেছিলাম, প্রতিবাদ করেছিলাম, তার ফল এলো। চাপে সরকার নতি স্বীকার করে, বাঙালিকে মনসা পুজোর স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিল! এই জয় বাংলার, এই জয় বাঙালির।’

প্রসঙ্গত মনসাপুজোর দিনটি ‘লকডাউন’-এর আওতা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল পুরুলিয়ায়। চলতি মাসে রাজ্য সরকার যে দিনগুলিতে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছিল, তার মধ্যে ১৭ অগস্টে মনসাপুজো। জেলার নানা প্রান্তের মানুষজন জানান, পুরুলিয়ার অন্যতম বড় উৎসব মনসাপুজো। পুজোর আগের দিন মানুষজন বাজার-হাট সারেন। কিন্তু পুজোর আগের দিনও ‘লকডাউন’ ঘোষিত হওয়ায় অনেকেই সমস্যায় পড়বেন বলে দাবি। সমস্যার কথা জানিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘টুইট’ করেছেন বিধায়ক নেপাল মাহাতো। বিবেচনার দাবি ওঠে তৃণমূলের তরফেও। এলাকার মানুষের দাবী ছিল, মনসাপুজো পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার মানুষজনের কাছে শুধু পুজোই নয়, লোক-উৎসবও বটে। ১৭ তারিখ পুজোর দিনে ‘লকডাউন’ থাকলে অনেকেই অসুবিধায় পড়বেন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে যদি পুজোর দিনটিকে ‘লকডাউন’-এর আওতার বাইরে রাখা যায় বা শিথিল করা যায়, মুখ্যমন্ত্রীকে সেই অনুরোধ জানান তারা। তাতে সারা দিয়েছে সরকার। মনসার আরাধনায় বাধা উঠে যাওয়ায় জারপরনায় খুশি অই জেলাগুলিতে।

সোমবার ফের লকডাউনের দিন বদল করল সরকার। প্রতি ক্ষেত্রেই যুক্তি, ওই দিনগুলিতে বিভিন্ন উৎসব বা স্থানীয় রীতি পালনের কথা থাকায় লকডাউন না-করার অনুরোধ এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। অগস্ট মাসে সম্পূর্ণ লকডাউনের দিন প্রথম বার যখন ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তখন তালিকায় ২২ ও ৩০ অগস্ট ছিল। কিন্তু ওই দু’দিন যথাক্রমে গণেশ পুজো ও মহরম। ফলে কিছু ক্ষণের মধ্যেই ওই দু’দিন লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ২৮ জুলাই রাতে ফের জানানো হয়, আগের ঘোষণামতো ২ এবং ৯ অগস্টও লকডাউন হবে না। ২ তারিখ ইদুজ্জোহার পরের এবং রাখী পূর্ণিমার আগের দিন আর ৯ তারিখ বিশ্ব জনজাতি দিবস। সেই রদবদলের পরে ঠিক হয় লকডাউন হবে ৫, ৮, ১৬, ১৭, ২৩, ২৪ এবং ৩১ অগস্ট। কিন্তু সোমবার সেই তালিকা থেকে চার দিন বাদ দিয়ে অন্য চার দিন লকডাউন হবে বলে জানানো হয়েছে। ১৬, ১৭, ২৩ ও ২৪ অগস্টের বদলে লকডাউন হবে ২০, ২১, ২৭ ও ২৮ অগস্ট। প্রশাসনের অন্দরের খবর, পার্সিদের নববর্ষ, মনসা পুজোর মতো উৎসব থাকায় দিন পরিবর্তন করা হয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও