বেজিং: চিনের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। ইতিমধ্যেই একথা স্বীকার করে নিয়েছে চিন। উহানে অবশ্য ক্রমশ কমেছে সংক্রমনের সংখ্যা।  লকডাউন উঠে গেছে সেই শহরে। কিন্তু লকডাউন শুরু হয়েছে চিনের অন্য এক শহরে। সেখানে নতুন করে দেখা যাচ্ছে করোনার সংক্রমণ।

ভাইরাস যাতে না ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য উহান শহরে লকডাউন করে দেওয়া হয় জানুয়ারি মাসে। ওই শহরে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২৫০০ জনের। তারপর থেকে উহান ছাড়িয়ে ওই ভাইরাস বিশ্ব মহামারীর আকার ধারণ করেছে। আজ সারাবিশ্বে আক্রান্ত প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৮২ হাজার জনের। ধাক্কা খাচ্ছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি।

সাম্প্রতিককালে উহান শহরে আর খুব বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২১ দিনে নতুন করে মাত্র তিনজনের শরীরের সংক্রমণ হয়েছে। তাই  উঠে গেছে লকডাউন ,স্বাভাবিক হচ্ছে পরিষেবা।

কিন্তু এবার নতুন করে আশঙ্কা ছড়িয়েছে চিনের অন্য এক শহরে। জায়গাটির নাম হিলংজিয়াং। বুধবার থেকে সেখানে জারি হয়েছে লকডাউন। সেখানকার লোকজনকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

পরিবারের যে কোন একজন বেরিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আনতে পারে। তিন দিন ছাড়া একদিন বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন পরিবারের সেই সদস্য। ওই শহরের পাশেই রাশিয়ার সীমান্ত। রাশিয়া থেকে নতুন করে সংক্রমণ নিয়ে এসেছেন অনেকে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখান থেকেই আবার মারন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে চিনের শাংডং প্রদেশের জিয়াঝাউ শহরে আতঙ্ক বাড়ছে। সেখানেও ১ এপ্রিল থেকে জারি হয়েছে লকডাউন। একাধিক নতুন সংক্রমনের ঘটনা ঘটেছে সেই শহরে।

এদিকে লকডাউন উঠে গিয়েছে উহান শহরে। বুধবার থেকে সেখানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। অন্তত ৫৫ হাজার মানুষ অপেক্ষা করছেন ওই শহর থেকে ট্রেনে করে ফেরার। বিমান পরিষেবা চালু হবার পর ইতিমধ্যেই এই শহর থেকে ১০ হাজার মানুষ বিমানে পাড়ি দিয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরছেন। যদিও উহান শহরের বাসিন্দাদের বলা হয়েছে যাতে তারা বাড়িতেই থাকেন, খুব প্রয়োজন ছাড়া পাশের বাড়িতে না যাওয়াই ভালো। পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার পর ওখান থেকে যারা বেজিং যাচ্ছেন তাদের একাধিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে বলে জানা গিয়েছে।