হাওড়া: করোনাভাইরাস গ্রাস করেছে পৃথিবীকে৷ মারণ এই ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সারা বিশ্বের প্রতিটি দেশই কমবেশি লকডাউনের আওতায়৷ ভারতও ব্যক্তিক্রম নয়৷ করোনা মহামারী আকার নেওয়ারর আগে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ ফলে ঘরবন্দি সাধারণ মানুষ৷ কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন একলা থাকা বয়স্ক ব্যক্তিরা৷ এই অবস্থায় সুদূর নিউ জার্সি থেকে হাওড়ায় লকডাউনে সমস্যায় পড়া বৃদ্ধা মায়ের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করলেন মেয়ে৷

বৃদ্ধা মায়ের জন্য মেয়ের কাতর আবেদনে সাড়া দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল পুলিশ৷ হাওড়ায় বৃদ্ধার বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিল পুলিশ৷ সুদূর আমেরিকার নিউ জার্সি থেকে হাওড়া সিটি পুলিশের হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ করেন হাওড়া নিবাসী মায়ের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন মেয়ে৷ সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তা৷

বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে অর্থাৎ হাওড়ায় লকডাউনে আটকে থাকা মাকে সাহায্যের জন্যে হাওড়া সিটি পুলিশের করোনা সংক্রমণ সংক্রান্ত নোডাল অফিসারকে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন মেয়ে৷ আবেদনে সাড়া দিয়ে ষাটোর্ধ মায়ের হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিল মানবিক পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে হাওড়া সিটি পুলিশের এসিপি ট্রাফিক-২ অশোকনাথ চট্টোপাধ্যায়ের (যিনি বর্তমানে হাওড়া সিটি পুলিশের করোনা সংক্রান্ত বিভাগের নোডাল অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ফোনে একটি হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ আসে যেখানে আমেরিকার নিউ জার্সি থেকে এক মহিলা হাওড়ায় বসবাসকারী তাঁর মায়ের জন্য লকডাউন পরিস্থিতিতে সাহায্যের আবেদন জানান।

হাওড়া সিটি পুলিশের ফেসবুক পেজ থেকে অশোকবাবুর ফোন নম্বর নিয়ে তিনি যোগাযোগ করেন। শনিবার রাতে নিউ জার্সিতে থাকা পায়েল বন্দোপাধ্যায়  হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ করে জানান, হাওড়ায় তাঁর মা একাই থাকেন। লকডাউনের ফলে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। মা খাদ্যদ্রব্যের সমস্যায় ভুগছেন। আমি একমাত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও দূরত্বের কারণে কিছুই করতে পারছি না।

বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপে খাদ্যসামগ্রীর অর্ডার দিতে চাইলেও সারা দেশে লকডাউনের কারণে তারাও যাবতীয় পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। বিষয়টি জানার পরেই অশোকবাবু পায়েলদেবীকে জানান, রবিবার সকালেই তাঁর মায়ের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। রবিবার সকালে ব্যাঁটরা থানার পুলিশ আধিকারিকরা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পৌঁছে যান শ্যামাশ্রী সিনেমা হলের কাছে মাধব ঘোষ লেনের লোকনাথ অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে। সেখানেই পায়েল বন্দোপাধ্যায়ের মা মিত্রা বন্দোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। হাওড়া সিটি পুলিশের বিপদের সময় এই সাহায্য পেয়ে খুবই খুশি মিত্রাদেবী জানান, হাওড়া সিটি পুলিশ খুব ভালো কাজ করছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও