নয়াদিল্লি : ৩১শে মে শেষ হচ্ছে চতুর্থ দফার লকডাউন। ঘোষণা হতে চলেছে পঞ্চম দফা। রবিবার ৩১শে মে মন কি বাত অনুষ্ঠানে ঘোষণা হতে পারে পঞ্চম দফা লকডাউনের। এবার আরও ছাড়ের কথা জানাতে পারে কেন্দ্র। পয়লা জুন থেকে সম্ভবত শুরু হতে চলেছে লকডাউন ৫.০। নিজের বেতার অনুষ্ঠান মন কি বাতকেই এবার লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার জন্য বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

কেমন হবে পঞ্চম দফার লকডাউন সে বিষয়ে আলোকপাত করবেন মোদী বলে জানা গিয়েছে। এই ইস্যুতে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহ। তাঁদের মতামত নেন লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে। তবে কেমন হতে চলেছে পঞ্চম দফার লকডাউন।

কি কি খোলা পাবেন, আর কি কি বন্ধ থাকবে তার তালিকা প্রকাশ করা হল।

বিমান পরিষেবা : পঞ্চম দফার লক়ডাউনে বিমান পরিষেবার সংখ্যা বাড়ানো হবে। খুলে দেওয়া হবে আরও রুট। যাত্রী চাহিদার ওপর তা নির্ভর করবে। গত সপ্তাহে বিভিন্ন মেট্রো শহরগুলিতে বিমান উড়ানের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট শহরগুলিতে বিমান উড়ানের চাহিদা বেশি ছিল। বিমানগুলিকে মোট যাত্রীর এক তৃতীয়াংশ সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান পরিষেবা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। অগাষ্টের আগেই বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।

ট্রেন পরিষেবা : শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা শুরু করেছে কেন্দ্র। ৩,৭৩৬টি ট্রেনে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছেছেন ৫০ লক্ষ শ্রমিক। গুজরাত ও মহারাষ্ট্র থেকে সর্বাধিক শ্রমিক বাড়ি ফিরেছেন। পয়লা জুন থেকে রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ১০০ জোড়া ট্রেন চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। বুকিং ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

সড়ক যোগাযোগ : ইতিমধ্যেই ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে আন্তরাজ্য বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। জুন মাস থেকে অন্যান্য রাজ্যেও শুরু হবে বলে খবর। মেট্রো পরিষেবা চালু হতে পারে, তবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে। মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব।

দোকান, শপিং মল, বাজার : পঞ্চম দফার লকডাউনেও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান খোলার অনুমতি রয়েছে। তবে আরও দোকান খোলা হতে পারে। বাজারও খুলে দিতে পারে প্রশাসন। যদিও জোড় বিজোড় নীতি মেনে খুলতে হবে বাজার ও দোকান। তবে শপিং মল খোলার অনুমতি দেয়নি কেন্দ্র।

জিম, সিনেমা হল, ধর্মীয় স্থান : এখনও পর্যন্ত জিম, সিনেমা হল ও থিয়েটার, ধর্মীয় স্থান খোলা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে খুলে দেওয়া হয়েছে সেলুন ও পার্লারগুলি।

স্কুল, কলেজ : মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছে জুলাই মাসে স্কুল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে জানানো হয়েছে উপস্থিতির হারে শিথিলতা থাকবে। অর্থাৎ ৩০ শতাংশ উপস্থিতিকেও গ্রাহ্য করতে হবে স্কুলগুলিকে।

এছাড়াও জানানো হয়েছে প্রথম শ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়াদের স্কুলে আসতে হবে না। অষ্টম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে পারবে। কেন্দ্র জানিয়েছে জোন ভিত্তিক স্কুলগুলি খোলা হবে। অর্থাৎ প্রথমে গ্রিন জোনের স্কুল খোলা হবে। তারপরে ধীরে ধীরে অরেঞ্জ ও সবশেষে রেড জোনের স্কুল খোলা হবে। রিপোর্ট জানাচ্ছে, প্রাথমিক শ্রেণীর পড়ুয়ারা লকডাউনের নিয়মকানুন মেনে চলতে পারবে না। তাই বাড়ি থেকেই পড়াশোনা চালাতে হবে তাদের। স্কুলগুলি পুরোপুরি খুলে গেলে পরবর্তী নির্দেশ পেয়ে তাদের স্কুলে পাঠাতে পারেন অভিভাবকরা।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প