প্রতীকী ছবি

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মারণ ভাইরাস প্রতিরোধে কেন্দ্র-রাজ্য একযোগে কাজ করে চলেছে। অতিসতর্কতা হিসেবে আগামী ২১ দিনের জন্য মঙ্গলবার রাত ১২ টা থেকেই সারা দেশে লক ডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হাতে গোনা মাত্র এই কয়েকটা দিন দেশবাসীকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।

কিন্তু এত সবের পরেও হুঁশ ফেরেনি এক শ্রেণীর সবজান্তা পাবলিকের। তাই ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও বারবার ‘লাঠিষৌধি’ প্রয়োগ করতে হচ্ছে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের।

বুধবার বাঁকুড়ার পাত্রসায়র থানা এলাকা জুড়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক প্রচারের পাশাপাশি অযথা বাইরে বেরোনো ‘সবজান্তা’দের পুলিশের লাঠির বাড়ি খেতে হলো।

এদিন সকাল থেকেই ওই এলাকার কাঁকরডাঙ্গা, সেলুট, বেলুট, পাঁচপাড়া এলাকায় একই চিত্রনাট্যের পূনঃরাবৃত্তি হয় বারবার। এদিকে দেশের এই মহাবিপদের সময় এক বিন্দুও বসে থাকতে রাজী নন পাত্রসায়র থানা এলাকার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা।

নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এক জায়গা থেকে আর এক জায়গাতে গাড়ি নিয়ে ছুটে চলেছেন তাঁরা। কিন্তু এত সবের পরেও হুঁশ ফিরবে কি ওই সব উচ্ছৃঙ্খল আর সবজান্তা যুবকদের। সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

অন্যদিকে লক ডাউনের আওতার বাইরে রয়েছে ওষুধের দোকান গুলি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে দোকানে ঢোকার আগে বাঁশের বেড়া লাগিয়েছেন তারা। এবিষয়ে স্থানীয় কাঁকরডাঙ্গা মোড়ের ওষুধ বিক্রেতা বিকাশ চন্দ্র বাগ বলেন, ‘মেডিসিন কাউন্টার, খোলা রাখতেই হবে’। এই মুহূর্তে নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে একটা দূরত্ব রাখার জন্যই এই পন্থা নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকেই বাঁকুড়া শহরের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও শাক, সব্জী ও মাছ, মাংসের দোকান গুলিতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

অযথা রাস্তায় বেরোনো মানুষদের ‘শায়েস্তা’ করতে তৎপর পুলিশও। গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলিতে ব্যারিকেড করে দেওয়ার পাশাপাশি বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী শহর জুড়ে টহলদারি শুরু করেছে। একজনও যাতে এই মুহূর্তে বাড়ির বাইরে না থাকেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন।