হাওড়া: করোনার আতঙ্কে সকাল থেকেই বাজারে ক্রেতার ভিড় হাওড়ায়। লকডাউনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন হাওড়ার মানুষ। ইতিমধ্যে কলকাতা সহ পুর এলাকায় লকডাউন জারি হয়ে গিয়েছে।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে রবিবার লক ডাউনের ঘোষণা করা হয়। রেশন দোকান, মুদি, আনাজ, ফল, মাছ, মাংস, দুধের দোকান সহ অত্যাবশকীয় পণ্য এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সকাল থেকেই হাওড়ার বাজারগুলিতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। সকলেই চান যত বেশি সম্ভব খাদ্য সামগ্রী বাড়িতে মজুত করে রাখতে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ জিনিসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন কিনা পুলিশ বাজারগুলিতে নজর রাখে। যাতে কোনওভাবেই কালোবাজারি না হয় সেই বিষয়টি । তবে, লকডাউনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন হাওড়ার মানুষ। কিন্তু এরকম চলতে থাকলে অনেক মানুষের রুজি রোজগারে যে প্রভাব পড়বে তা সকলেই মেনে নিচ্ছেন।

হাওড়ার বাসিন্দা চাকুরিজীবী সঞ্চিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যেভাবে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে তা থেকে সতর্কতা হিসেবে সরকার হাওড়া জেলাতেও লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যাবে। আমরা সাধারণ মানুষ সেই ভরসাতে আছি। জিনিসপত্র মজুত সেভাবে করছিনা যেহেতু রেশন দোকান, মুদি দোকান বা বাজার থেকে জিনিস পাওয়া যাবে। তবে করোনা থেকে সতর্ক না হলে আগামী দিনে সারা ভারতবর্ষে এ থেকে মহামারী আকার নিতে পারে। তাই সকলেরই উচিত সরকারের সাবধানতা মেনে চলা এবং বাড়িতে থাকা।”

হাওড়ার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক অর্ণব দাস বলেন, “এই লকডাউন বৃহত্তর স্বার্থে করা হয়েছে। খাবার আমরা অল্প মজুত করে রাখতেই পারি। তবে মনে হয় না এতো কিছু সমস্যা হবে। আমরা ভাত, ডিম সিদ্ধ খেয়েও চালিয়ে নিতে পারব। যে কারণে লকডাউন করা হয়েছে সেটা যদি আমরা উপলব্ধি করতে না পারি তাহলে এনিয়ে অনেক সমস্যা হবে। অনেক দেশে করোনা সংক্রমণ এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে পরিস্থিতি তাদের হাতের বাইরে চলে গেছে। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার অনেক ভালো কাজ করছে। কিন্তু অনেক মানুষ এখনও সচেতন নন। চায়ের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা দিন আনা দিন খাওয়া পরিস্থিতি তাদের ক্ষেত্রে এরকম চলতে থাকলে তারা এতে সমস্যায় পড়বেন। আমাদেরও উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।”

হাওড়ার আরেক বাসিন্দা পেশায় জিম প্রশিক্ষক প্রমিত রায় বলেন, “সমস্যা তো হবেই। কিন্তু এই লকডাউনের প্রয়োজন ছিল। ভারতবর্ষের মতো জনবহুল দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে মহামারী আকার নেবে। সেক্ষেত্রে প্রচুর মানুষ মারা যাবে। এরজন্যই এই লকডাউন করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা বাড়িতে কিছু মাল কিনে রেখেছি। সব মাল যদি একাই কিনে নিই তাহলে অন্য মানুষের সমস্যা হবে। তাই যতটা প্রয়োজন আমাদের ততটাই জিনিস কেনা উচিত। এরকম চলতে থাকলে অনেক মানুষের রুজি-রুটির সমস্যা হবে।”